নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছর ধরে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে যে, এপ্রিল-মে মাসে গরমে নাজেহাল হতে হবে। এ বছর একেবারেই উলটপুরাণ। কেউ বলছেন, ‘আবহাওয়ার মতি ঠিক নেই।’ কারও মতে, ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘেঁটে দিয়েছে সব।’
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছর ধরে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে যে, এপ্রিল-মে মাসে গরমে নাজেহাল হতে হবে। এ বছর একেবারেই উলটপুরাণ। কেউ বলছেন, ‘আবহাওয়ার মতি ঠিক নেই।’ কারও মতে, ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘেঁটে দিয়েছে সব।’
বুধবার সকাল ১০টাতেই আকাশ কালো। বজ্রবিদ্যুত্ সহ শুরু বৃষ্টি। সেই যে শুরু হল, বিকেলের দিকে সামান্য রোদ উঁকি দিল বটে কিন্তু শহরের আবহাওয়া রইল শীতলই। শহরের সবাই অবাক। ভরা গরমে ছাতা মাথায় বৃষ্টি আটকাতে হচ্ছে? ঘাম নেই!
বুধবার সকাল থেকেই শহরের আকাশের মুখ গোমড়া। ১০টা বাজতেই শুরু প্রায় আকাশভাঙা বৃষ্টি। তার সঙ্গে বাজ পড়ল একের পর একটা। এমন বৃষ্টি অনেকদিন দেখেনি শহর। বৃষ্টি তো ভালোই লাগল কিন্তু অফিসে বেরনোর সময় বৃষ্টির ফলেই হল দেরিও। দক্ষিণ শহরতলির গড়িয়া, সোনারপুরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গেল সরকারি রিপোর্টে। দক্ষিণ শহরতলির কিছু এলাকায় জলও দাঁড়িয়ে গেল। এছাড়া বরানগর, নিউটাউনের মতো উত্তর শহরতলিতেও ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ব্যাপক বৃষ্টিপাত। মেট্রো বা ট্রেনে অফিস যেতে এদিন সকলেরই প্রায় ‘লেট’। সবার মুখে একটিই কথা, ‘বৃষ্টির মধ্যে তো। তাই আজ দেরি হয়ে গেল।’ ছেলেরা সকলে প্যান্ট গুটিয়ে, হাতে ছাতা নিয়ে, কেউ খানিক ভিজেই অফিস পৌঁছলেন। শিয়ালদহে ট্রেন থেকে নেমে সোনারপুরের বাসিন্দা অমৃতাংশু সাহা বলেন, ‘মে মাসের শুরুতেই সকালে বৃষ্টিতে ভিজে অফিস যেতে হচ্ছে। এ একদম অভাবনীয় পরিস্থিতি।’ পাশ থেকে তাঁর বন্ধু কৌশিক বসু বলে উঠলেন, ‘সব কিছুতেই ঝামেলা। রোদ হলেও অসুবিধা। আবার বৃষ্টি হলেও সমস্যা।’
অন্যদিকে বৃষ্টির দাপটে ছাতা ভেঙেছে বরানগরের শ্রীতমা পালের। বলেন, ‘গতবছর এই দিন রোদের তাপে বাড়ির বাইরে বের হতে পর্যন্ত পারছিলাম না। আর এবছর বৃষ্টির জন্য বাড়ি থেকে বের হতে দেরি হল। আবহাওয়ার মতিগতি বোঝা দায়।’ পথেঘাটে কারও আবার বক্তব্য, ‘এবার কি তবে গরমকালও ছোট হয়ে গেল? এখন তবে শুধুই বর্ষাকাল?’ বর্ষাকালের বৃষ্টি নাকি নিম্নচাপ, এইসব নিয়েও চলতে থাকল বিতর্ক। তবে সবার মত কিন্তু দিনের শেষে একই, ‘রোদ-আর্দ্রতা-ঘামের তুলনায় বৃষ্টিভেজা শীতল দিনই ভালো।’
ফলে কাদা প্যাচপ্যাচে রাস্তায় হেঁটে, বৃষ্টি ভিজে অফিসে ও কাজে বেরিয়েও শহরবাসী বেশ খুশি। এক বাক্যে সবার বক্তব্য, ‘বৃষ্টির জলে গা ভেজে ভিজুক। ওই প্যাচপেচে গরম হাওয়ার চেয়ে এই আবহাওয়া অনেক ভালো।’ কিন্তু ঘর পোড়া গরুর ভয় তো সহজে যেতে চায় না। অটোচালক সুকুমার কুমার তাই বলেন, ‘গরম পড়বেই। এই দু’দিন যা একটু আনন্দে কাটাচ্ছি। ভয়াবহ দিন তো ফিরে আসবেই।’