Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তুমুল বৃষ্টিতে ব্যাহত হুগলির স্বাভাবিক জনজীবন, খুশির হাওয়া কৃষক মহল্লায়

রাতে বৃষ্টি। সকালেও রেহাই মিলল না। সোমবার দিনভর বৃষ্টির জেরে হুগলির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।

তুমুল বৃষ্টিতে ব্যাহত হুগলির স্বাভাবিক  জনজীবন, খুশির হাওয়া কৃষক মহল্লায়
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: রাতে বৃষ্টি। সকালেও রেহাই মিলল না। সোমবার দিনভর বৃষ্টির জেরে হুগলির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। অফিস থেকে স্কুল, বাজারঘাটে যেতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন ডানকুনি থেকে পাণ্ডুয়া, চুঁচুড়া থেকে সিঙ্গুর, তারকেশ্বরের মানুষ। ভোগান্তি হয়েছে জল জমার কারণেও। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই জল নেমে গিয়েছে। দিনভর মেঘলা আকাশ এবং নাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছে হুগলিতে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে শহর থেকে গ্রাম— কোনো জায়গাতেই বাজারহাট কার্যত বসতে পারেনি। এ নিয়েও নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। জেলা সদর চুঁচুড়া থেকে শ্রীরামপুর, পাণ্ডুয়া সর্বত্রই অস্থায়ী বাজার কার্যত ফাঁকা ছিল।

Advertisement

তবে বৃষ্টির জেরে হাসি ফুটেছে কৃষক মহল্লায়। মাঠে আমন ধান রোয়া হয়েছে। ফলে, জলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছিল। দিনভর বৃষ্টি সেই চাহিদার অনেকটাই পূরণ করেছে। ধনেখালি, তারকেশ্বর, হরিপালে এদিন অনেক জায়গায় মাঠে ধান রুইতে নেমেছিলেন কৃষকরা। হুগলি জেলার এক কৃষিকর্তা বলেন, রবিবার রাতের পর সোমবারও দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির ফলে আপাতত কৃষিকাজে উপকারই হয়েছে। পাণ্ডুয়ার কৃষক গোপাল দাস বলেন, সদ্য আমন রুয়েছি। এই বৃষ্টিতে মাঠে জল জমেছে। বৃষ্টির প্রবল ধারা না থাকায় ধানের জন্য কোনো সমস্যা হয়নি। উলটে জল পেয়ে যাওয়ায় সুবিধাই হয়েছে।শ্রীরামপুরের বাসিন্দা রমেশ পাশোয়ান বলেন, এদিন টিনবাজার, মানিকতলা সহ একাধিক বাজার সেভাবে জমেনি। ফলে, বাজারে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে বাজারে যাওয়াই কার্যত সার হয়েছে। টোটোচালক অভিজিৎ বাগ বলেন, চুঁচুড়ার রাস্তা এমনিতেই বেহাল। তার উপরে বৃষ্টির জেরে রাস্তার গর্তে জল জমে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ফলে, এদিন যাত্রী পরিবহণে সমস্যা হয়েছে। পেটের দায়ে রাস্তায় বের হতে হয়েছে। তবে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিবার রাত থেকেই আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করেছিল হুগলিতে। রাতে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। ভোরের দিকে সামান্য বিরাম ছিল। সকাল থেকেই ফের আকাশের মুখ ভার হয়ে যায়। তারপর দিনভর নাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল ধারায় বৃষ্টি না হলেও নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সকালের দিকেই হুগলির গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র জল জমে গিয়েছিল। জেলা সদর চুঁচুড়ার ইঞ্জিনিয়ার বাগান, পীরতলা, ধরমপুরের একাংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। যদিও পরে তা নেমে গিয়েছিল। বৈদ্যবাটি স্টেশন চত্বরে যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হয়।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ