Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, স্তব্ধ হিথরো বিমানবন্দর, যাত্রা আজই, গ্যাটউইকে নামবেন মমতা

মধ্যরাতে আগুন লেগেছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রে। মাত্র দেড় মাইল দূরের ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডের জেরেই, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর

অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, স্তব্ধ হিথরো বিমানবন্দর, যাত্রা আজই, গ্যাটউইকে নামবেন মমতা
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন ও কলকাতা: মধ্যরাতে আগুন লেগেছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রে। মাত্র দেড় মাইল দূরের ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডের জেরেই, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের ঠিক আগে স্তব্ধ লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর। পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে শুক্রবার ভোর (ভারতীয় সময় বেলা ১১টা) হওয়ামাত্র তড়িঘড়ি এয়ারপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আকাশে তখন অবতরণের অপেক্ষায় সারা রাত পাড়ি দিয়ে আসা অন্তত ১২০টি বিমান। সেগুলিকে ব্রিটেন ও ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত হিথরো বন্ধ রাখার ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তাতেই শোরগোল পড়ে যায় গোটা লন্ডনে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হাজার হাজার বিমানযাত্রী। ব্যাহত হয় অন্তত ১,৩৫০টি বিমানের পরিষেবা। বিকেল ৪টে নাগাদ (ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা) হিথরোয় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানা গিয়েছে। তবে রাত পর্যন্ত বিমানবন্দর খোলার খবর পাওয়া যায়নি। উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক হতে হতে আরও দু’-তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে নেমেছে কাউন্টার-টেরর পুলিস।

Advertisement

ঘটনাচক্রে শনিবার সকালেই লন্ডন রওনা হওয়ার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু  আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সেই সফর সূচিতে সামান্য বদল আনা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দুবাই রওনা হবেন তিনি। সেখানে পৌঁছনোর পর, সেদিনই পাড়ি দেবেন লন্ডনের উদ্দেশে। তবে হিথরো নয়, তার বদলে মুখ্যমন্ত্রী নামবেন লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ হিথরো থেকে দেড় মাইল দূরে হেজ এলাকায় ওই বিদ্যুতের সাবস্টেশনে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে শতাধিক মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে শুধু হিথরো নয়, আশপাশের ১৬ হাজার বাড়ি মিলিয়ে লন্ডনের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। তার জেরে বিমানবন্দর শুধু নয়, হিথরোগামী সব ট্রেনের পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। সিরিয়াম নামে একটি সংস্থার দাবি, এদিন এয়ারপোর্ট বন্ধের প্রভাব পড়েছে প্রায় তিন লক্ষ যাত্রীর উপর। ব্রিটেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। বিধ্বংসী আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাকআপ জেনারেটরও। গোটা ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে হিথরো কর্তৃপক্ষ। 
এদিনই সস্ত্রীক লন্ডনে আসার কথা ছিল মার্কিন প্রবাসী সুদীপ রায়ের। কিন্তু হিথরো বন্ধ থাকায় আমস্টারডামে আটকে পড়েছেন তাঁরা। সুদীপবাবু ‘বর্তমান’কে জানিয়েছেন, ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতা! আগামী কাল ভোরে আমার আমেরিকা ফেরার ফ্লাইট। আজ রাতে যেভাবে হোক লন্ডন পৌঁছতেই হবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ