Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চেক বাউন্স মামলায় রাত ৩টে পর্যন্ত শুনানি, গ্রেপ্তারের ৫ দিন পর কোর্টে পেশ, অভিযুক্তকে জামিন

একটি চেক বাউন্সের মামলা। আর তা ঘিরে বেনজির ঘটনা। প্রথমটি হল, গ্রেপ্তারের চারদিন পর ধৃতকে তোলা হল আদালতে। পুলিস জানাল, ধৃত অসুস্থ ছিল তাই এই ঘটনা।

চেক বাউন্স মামলায় রাত ৩টে পর্যন্ত শুনানি, গ্রেপ্তারের ৫ দিন পর কোর্টে পেশ, অভিযুক্তকে জামিন
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একটি চেক বাউন্সের মামলা। আর তা ঘিরে বেনজির ঘটনা। প্রথমটি হল, গ্রেপ্তারের চারদিন পর ধৃতকে তোলা হল আদালতে। পুলিস জানাল, ধৃত অসুস্থ ছিল তাই এই ঘটনা। তবে অভিযোগ, অসুস্থতা সংক্রান্ত কোনও তথ্যই জমা দেয়নি পুলিস। দ্বিতীয়টি হল, ধৃতকে সকালের দিকে নয় আদালতে তোলা হল শেষ বিকেলে, বিকেল পাঁচটা নাগাদ। তৃতীয়টি হল, টানা চলল শুনানি। এবং রাত তিনটের সময় রায় ঘোষণা করলেন বিচারক। 

Advertisement

ধৃত জামিন পেলেন। সোমবার এই বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল বারাসত জেলা আদালত। মামলাটি মধ্যমগ্রাম থানার। চেক বাউন্স হওয়ার অভিযোগে ১২ মার্চ জ্যোতিপ্রকাশ দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস।আইনজীবীরা জানান, নিয়মানুযায়ী গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে তুলতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বেনিয়ম হয়েছে। ১৭ মার্চ জ্যোতিপ্রকাশবাবুকে বারাসত আদালতে তোলা হয়। পুলিস আদালতকে জানিয়েছে, অভিযুক্ত অসুস্থ ছিল। প্রথমে তাকে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে। অভিযুক্তের আইনজীবীদের দাবি, জ্যোতিপ্রকাশের অসুস্থতা ও হাসপাতালে চিকিৎসা করানো সংক্রান্ত কোনও তথ্যই পুলিস জানায়নি আদালতে। 
এদিন প্রথমে অভিযুক্তকে সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তোলা হয়। সেখান থেকে মামলাটি স্থানান্তর করা হয় বারাসত আদালতের অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে। সোমবার রাত পৌনে ন’টার সময়ে শুনানি শুরু এসিজিএম কোর্টে। নজিরবিহীনভাবে মামলার শুনানি চলে টানা রাত তিনটে পর্যন্ত। শেষে অভিযুক্তকে এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেন বিচারক। অভিযুক্তের আইনজীবী সুশোভন মিত্র বলেন, আমার মক্কেলকে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস ১২ মার্চ গ্রেপ্তার করে চেক বাউন্সের একটি অভিযোগে। কিন্তু আদালতে তোলা হল ১৭ মার্চ। ধৃত অসুস্থ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কোনও তথ্যই মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস জানায়নি। শুনানির পর রাত তিনটেয় তাঁর জামিন হয়েছে। জুডিশিয়াল ও প্রশাসনের সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এত রাত পর্যন্ত আদালত চলেছে। বারাসত আদালতে এত রাতে রায় ঘোষণা এর আগে কোনওদিন হয়নি। এদিন আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি পুলিস। বারাসত আদালতের আইনজীবী গৌরীশঙ্কর বল বলেন, মধ্যমগ্রাম থানার পুলিসের গাফিলতির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১৫ বছরের ওকালতি জীবনে রাত তিনটে পর্যন্ত বারাসত আদালতে শুনানি হয়েছে বলে শুনিনি। সমন্বয়ের অভাবেই বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকলাম আমরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ