নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানে শুনানিতে ডাক পাবেন ৯৪ হাজার ২২৫জন ভোটার। তাঁদের নির্বাচন কমিশনের ঠিক করে দেওয়া নথি আনতে হবে। ১১টি নথির মধ্যে কেউ একটিও না আনতে পারলে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বুথে নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্য বিএলও ও বিএলএদের মধ্যে রেজ্যুলিউশন হবে। তাঁদের ঐক্যমতে সই করা রেজ্যুলিউশনের ছবি কমিশনের অ্যাপে আপলোড করা হবে। বিএলএ এবং বিএলওদের মধ্যে কী রেজ্যুলিউশন হচ্ছে, সেই কপি প্রতি বুথেই টাঙানো হবে। কোন বুথের ভোটার নিয়ে বিএলওদের আপত্তি থাকলে সেটাও রেজ্যুলিউশনে লেখা হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯৮ হাজার ৬০০জন মৃত ভোটার রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়িতে নতুন করে সমীক্ষা করা হচ্ছে। সেই তথ্য তৎক্ষণাৎ অ্যাপে আপলোড করা হচ্ছে। কোনও মৃত ভোটারের নাম যাতে তালিকাতে না থাকে, সেই কারণেই এই উদ্যোগ। তাছাড়া খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেও রাজনৈতিক দলগুলি আপত্তি জানাতে পারে। কোনও মৃত বা অবৈধ ভোটেরের নাম তালিকায় থেকে গেলে তখন বাদ দেওয়া হবে। এসআইআরের কাজ শেষ হওয়ার পর বিএলওদের শংসাপত্র দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ভালো কাজ করার জন্য বিএলওদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে, কোনও বিএলও কাজে গাফিলতি করলে তাঁকে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন অভিযোগ করেছিল। সেগুলি প্রত্যেকটি খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন বিএলওর বিরুদ্ধে কোনও এক জায়গায় বসেই ফর্ম দেওয়া অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত বিএলওদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, অনেক অভিযোগের সত্যতাও খুঁজে পায়নি কমিশন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় এখনও মৃতদের নাম রয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়িতে ফের যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক ভোটারের নাম দুই কেন্দ্রে রয়েছে। সেই ভোটারদের নামও বাদ দেওয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরের কাজে প্রথম থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলা এগিয়ে রয়েছে। সেই কারণে কয়েকদিন আগে রোল পর্যবেক্ষক এসে আধিকারিকদের প্রশংসা করেছেন। শুনানির কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোটাদের নোটিশ করে ডাকা হবে। কোথায় কখন আসতে হবে, সেটা সেই নোটিশেই জানিয়ে দেওয়া হবে। জেলায় অনেকেরই নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, অথচ বিএলওদের অ্যাপে তা দেখাচ্ছে না। এই সমস্ত ভোটারদেরও শুনানিতে ডাকা হবে। তবে, তাঁদের বিশেষ নথি আনার প্রয়োজন হবে না।