রাঁচি: কৃশ আনসারি। ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারির ছেলে। কিন্তু বাবার হয়ে ছেলে কৃশই নাকি দপ্তরের যাবতীয় কাজ দেখেন। এবার রাঁচির একটি সরকারি হাসপাতালের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ১৯ বছরের কৃশ। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তবে মন্ত্রী যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ছেলে ওইদিন হাসপাতালে ভর্তি তাঁর শিক্ষকের বাবা-মাকে দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, আমার ছেলে তো কোনও কৃষককে গাড়ির চাকায় পিষে মারেনি। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে অজয়ের বিরুদ্ধে কৃষকদের গাড়িচাপা দিয়ে মারার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়েছিল গোটা দেশ। আত্মপক্ষ সমর্থনে এবার সেই প্রসঙ্গ টানলেন ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেস মন্ত্রী আনসারি।
যদিও থামছে না বিতর্ক। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বন্ধুদের নিয়ে রাঁচির রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে গিয়েছেন কৃশ। পাশ থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে আসছে। বলা হচ্ছে, ‘আপনাদের সঙ্গে রয়েছে মন্ত্রীর ছেলে। আপনাদের যদি কোনও সমস্যা হয়, তাঁকে বলতে পারেন।’ এরপর তিনি একজনের থেকে অভিযোগ শুনতে থাকেন। সেই ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি মেডিক্যাল বিল নিয়েও কথা বলছেন।
এক্স হ্যান্ডলে ঝাড়খণ্ড বিজেপির পক্ষ থেকে সেই ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘একবার ভেবে দেখুন ইন্ডি জোটের দুর্বৃত্তরা কতদূর যেতে পারে। ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইরফান আনসারি বাড়িতে বসে রয়েছেন। আর তাঁর ছেলেকে পাঠাচ্ছেন হাসপাতাল পরিদর্শনে।’ রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র অজয় শাহর অভিযোগ, ‘ঝাড়খণ্ড এখন গণতন্ত্রের বদলে পরিবারতন্ত্রের প্রতীকী হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রীর ছেলে এবার ফাইল যাচাই করবেন। শিক্ষামন্ত্রীর ছেলে এখন শিক্ষকদের উপস্থিতি পরীক্ষা করবেন। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে হাসপাতাল পরীক্ষা করবেন।’ মন্ত্রী ইরফান আনসারি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমার ছেলে সবসময় সকলকে সাহায্য করতে চায়। ওর শিক্ষকের বাবা-মা অসুস্থ। বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে গিয়েছিল। ওই হাসপাতালে জামতাড়া এবং দুমকারও অনেকে ভর্তি রয়েছে। তাদের সাহায্যের জন্য মায়ের থেকে থেকে টাকাও নিয়েছে সে।’ আনসারি আরও বলেন, ‘অভিযোগ শোনার পর আমি ওকে বকেছিলাম। পরে পুরো ঘটনা জানতে পারি।’