


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শহরতলিজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে নেশামুক্তি কেন্দ্র। মোটা টাকা খরচ করে সেখানে নিকট আত্মীয়দের রেখে আসছেন বহু মানুষ। অথচ এসব নেশামুক্তি কেন্দ্রের সিংহভাগেরই স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই। পরিকাঠামো বেহাল। শুধু তাই নয়, এসব এলাকায় কতগুলি এমন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে, তার সঠিক হিসেবও নেই স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে। পুরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই খুলে দেওয়া হচ্ছে নেশামুক্তি কেন্দ্র। নজরদারির কোনও বালাই না থাকায় এসব কেন্দ্র শুধুমাত্র টাকা উপার্জনের জায়গায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। কারও অস্বাভাবিক মৃত্যু বা নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থাকলে কালেভদ্রে স্বাস্থ্যদপ্তর পরিদর্শন করে। তখন সামনে চলে আসে কেন্দ্রগুলির ভয়ঙ্কর চিত্র। এই অবস্থায় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ পুরসভাগুলিকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার আগে সতর্ক হওয়ার বার্তাও দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় দোতলা বা একতলা ভাড়ায় নিয়ে খুলে ফেলা হচ্ছে এসব কেন্দ্র। স্বাস্থ্যদপ্তরের ‘সি লাইসেন্স’ ছাড়াই চলছে রমরমিয়ে। স্নায়ুরোগের নানা ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে অবলীলায়। এসবের মধ্যে কেন্দ্রে কারও মৃত্যু ঘটলে হইচই হয়। বারুইপুর, বারাসত, বরানগর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নেশামুক্তি কেন্দ্রে একের পর এক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। তারপরও যে পরিস্থিতির কোনও বদল হয়নি, সম্প্রতি সেই প্রমাণ মিলেছে বরানগরের নিয়োগীপাড়ায়। শুক্রবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা অভিযানে যেতেই এখানকার নেশামুক্তি কেন্দ্রের ভয়াবহ অবস্থা সামনে আসে। তিনটি রুমে ৪৬ জন যুবক ও যুবতীকে রাখা হয়েছিল। অপরিচ্ছন্ন ঘর। স্নায়ুরোগের নানা ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে। শুধু তাই নয়, আবাসিকদের তথ্য গোপন করতে ছাদে ১৬ জন ও একটি তালাবন্ধ ঘরে ১০জন মহিলাকে কার্যত আটকে রাখা হয়েছিল। আবাসিকরা স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রতিনিধিদের সামনে ভয়ঙ্কর অত্যাচারের অভিযোগ করেন। ওই কেন্দ্রে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়া এক ছাত্রীও ছিলেন। এই নেশামুক্তি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বরানগর পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের সিআইসি রামকৃষ্ণ পাল।
এ বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে প্রতিটি পুরসভাকে চিঠি দিয়ে কোথায় ক’টি নেশামুক্তি কেন্দ্র আছে, জানতে চাওয়া হয়েছিল। এখনও অনেক পুরসভা থেকে সেই উত্তর পাওয়া যায়নি। এই ধরনের কেন্দ্র চালাতে স্বাস্থ্যদপ্তরের অনুমোদন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। বহুক্ষেত্রে তা নেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রগুলির তালিকা থাকলে নিয়মিত নজরদারি, সচেতনতা প্রচার, কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা সহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া যায়। আমাদের পক্ষে এলাকাভিত্তিক তদন্ত চালিয়ে এই তথ্য জোগাড় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই পুরসভাগুলিকে ফের চিঠি দিয়ে অনুরোধ করব, যাতে কোনও নেশামুক্তি কেন্দ্র তৈরির ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার আগে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো হয়।’