Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিকে দিকে আক্রান্তের ঘটনায় উদ্বেগ প্রধান শিক্ষক সংগঠনের, বাঁকুড়ার ঘটনায় নেওয়া হয়নি এফআইআর

দিকে দিকে প্রধান শিক্ষকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধান শিক্ষকদের সংগঠনের কর্মকর্তারা।

দিকে দিকে আক্রান্তের ঘটনায় উদ্বেগ প্রধান শিক্ষক সংগঠনের, বাঁকুড়ার ঘটনায় নেওয়া হয়নি এফআইআর
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: দিকে দিকে প্রধান শিক্ষকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধান শিক্ষকদের সংগঠনের কর্মকর্তারা। রবিবার বিষ্ণুপুরে একটি বেসরকারি লজে আয়োজিত অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেড মাস্টার্স অ্যান্ড হেড মিস্ট্রেস-এর তরফে কনভেনশনের আয়োজন করা হয়। বাঁকুড়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রধান শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত কনভেনশনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, জলপাইগুড়িতে প্রধান শিক্ষকের উপর পড়ুয়াদের হামলার ঘটনায় পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু, বাঁকুড়ার বাকি সেঁদরা স্কুলের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত এফআইআর নেওয়া হয়নি। 

Advertisement

চন্দনবাবু বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের উপর আক্রমণ সমান্তরালে বেড়েছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় তো হয়েইছে। তার সঙ্গে কোথাও কোথাও দুষ্কৃতী হামলা হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক মদত রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলাস্কুলে প্রধান শিক্ষক তাঁরই ছাত্র ও প্রাক্তনদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। বাঁকুড়া বাকি সেঁদরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাধনচন্দ্র পাল আক্রান্ত হয়েছেন। বনগাঁর গোপালগনর, হাওড়াতেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রধানশিক্ষক শিক্ষিকারা আক্রমণের লক্ষবস্তু হচ্ছেন। বিগত ১৫বছর বা তারও কিছু সময় বেশি ধরে আমাদের স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেশন ডিলারে পরিণত হয়েছে। সেখানে শিক্ষার বাইরে বাহ্যিক ও বস্তুগত চাওয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে সেদিন যাদের সমস্যা হয়েছিল, তারাই মূলত প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাকে আক্রমণ করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসন নীরব থেকেছে। আমরা সামগ্রিকভাবে সারারাজ্যজুড়ে এই চেতনার জায়গাটা বিশেষ কনভেনশেনের মাধ্যমে সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাড়া একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। তিনি যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, তাহলে ভীষণ সমস্যা। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সহকর্মীরা চক্রান্তের মূলে রয়েছে। পুলিশ যাতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় এদিনের কনভেনশনে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে ডেপুটেশন দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই এব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।  
চন্দনবাবু আরও বলেন, জলপাইগুড়ির প্রধান শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। চারজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু, বাঁকুড়ার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সুপার, আইসিকে জানানো হয়েছে। কিন্তু দোষীদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা এফআইআর পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। সেই জন্য আমাদের ক্ষোভ রয়েছে। আমরা চাই কোনো প্রধান শিক্ষক দুর্নীতি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কিন্তু পড়ুয়াদের সামনে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাঁকুড়া বাকি সেঁদরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাধনচন্দ্র পাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিড ডে মিলের দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। সরকারিভাবে তার তদন্ত হয়েছে। কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি। তারপরেও আমার কাছে অন্যায়ভাবে ১৫লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে। তার প্রতিবাদ করাতেই পরিকল্পনা করে আমার উপর হামলা চালানো হয়েছে। পড়ুয়াদের সামনে আমাকে চ্যাংদোলা করে গেটের বাইরে নিয়ে গিয়ে ডিম ও গোবর মাখানো হয়েছে। ঘটনার পর আমি ১০ দিন হাসপাতালে ভরতি ছিলাম। আমি চাই আমার মতো রাজ্যের কোথাও যেন এরকম নারকীয় ঘটনা না ঘটে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত পুলিশ এফআইআর নেয়নি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ