নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গার্ডেনরিচ কে সি মিলস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অলক চাকীকে শনিবার দিনভর ঘেরাও করে রাখার অভিযোগ উঠল পরিচালন কমিটির সদস্য এবং বেশ কিছু বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। সেই সময় স্কুলের সিসিটিভিও বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শেষে মেটিয়াবুরুজ থানার পুলিশ খবর পেয়ে স্কুলে যায়। এরপরেই বেরিয়ে আসতে পারেন তিনি। তবে, প্রধান শিক্ষকের এই অভিযোগ অস্বীকার করেন সভাপতি রহমত আলম আনসারি।
অলকবাবুর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ করেছিলেন সভাপতি। তা নিয়ে শুনানিও হয়। তিনি যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছে শ্যামবাজার আদর্শ হাইস্কুলে ট্রান্সফারের অর্ডার আসে। তিনি যোগ দিতে রাজিও ছিলেন। তবে, পরবর্তীতে সেই অর্ডার বদলে খড়দহের একটি স্কুলে বদলি করা হয় তাঁকে। তারপরেই তিনি মামলা করেন। ভেকেশন বেঞ্চে উঠলেও পরে সেটি নর্মাল বেঞ্চে পাঠানো হয়। শুক্রবার আদালত খোলার পরে তিনি আবেদন করে ২৯ অক্টোবর শুনানির ডেট পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনি শনিবার স্কুলে যোগ দিতে গেলে তাঁর উপর চড়াও হন পরিচালন কমিটির সদস্যরা। জোর করে চাবি কেড়ে নিতে চাওয়া, নথি বের করার চেষ্টা চলে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এলে তাঁদের সামনে তিনি স্কুলের ক্লার্কের হাতে চাবি দিয়ে বেরিয়ে আসেন। স্কুলের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি তুলে ধরার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি অলকবাবুর। তাঁর পরিবর্তে কোনও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বসাতে চাইছে কমিটি।
স্কুলে প্রায় ২২০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। অথচ শিক্ষক মাত্র ১০ জন। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। তাই অস্থায়ী শিক্ষকরাই ভরসা। তাঁদেরই বেতন সংক্রান্ত টাকা আলমারিতে রাখা থাকত। সেগুলি নিয়েই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ হয়েছে বলে অলকবাবুর দাবি। সেসবের হিসেব, অডিট রিপোর্টও তিনি পেশ করেছেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে সরানো হয়েছে বলে অনুমান তাঁর। এ বিষয়ে রহমত আনসারি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করার ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ এমনিতেই তাকে ছুটির সময়। কোনও ঘটনার জন্য তারা আসেনি। উনি মিথ্যা বলছেন।’ তবে, কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। বড়ো কোনও অশান্তি হয়নি। প্রধান শিক্ষক সংগঠন এসএফএইচএম-এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধানের মর্যাদা ও দায়িত্ব এভাবে খর্ব করার চেষ্টা এবং তাঁকে লাঞ্ছনা করার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।