Bartaman Logo
১৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্নীতির অপবাদ কিছুতেই মানতে পারছিল না’, দাবি আশিসবাবুর স্ত্রীর

‘যে মানুষটা কথা বলতে ভালবাসত, ইদানীং কেমন যেন চুপ হয়ে গিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে ওকে চোর বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছিল, তাতে খুব ব্যথিত আর মর্মাহত হয়ে পড়েছিল।

‘সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্নীতির অপবাদ কিছুতেই মানতে পারছিল না’, দাবি আশিসবাবুর স্ত্রীর
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: ‘যে মানুষটা কথা বলতে ভালবাসত, ইদানীং কেমন যেন চুপ হয়ে গিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে ওকে চোর বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছিল, তাতে খুব ব্যথিত আর মর্মাহত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ও যে শেষপর্যন্ত এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি।’ কথাগুলি বলার সময় হাউ হাউ করে কাঁদছিলেন তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুস্মিতাদেবী। নাম না করে বিজেপিকে দুষে আশিসবাবুর ভ্রাতৃবধূ দীপা বলেন, ‘চোর চোর বলে লোকটাকে মেরে দিল। অপমান সহ্য করতে পারেনি। এ পার্টি আমরা আগে দেখিনি। এ পার্টি মানুষকে মেরে দেওয়া পার্টি।’

Advertisement

সুস্মিতাদেবী জানান, সকাল ৬টা নাগাদ দেওর প্রশান্তর চিৎকারে তাঁর ঘুম ভাঙে। নীচে নেমে এসে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী আশিসবাবু ঘরে নেই। ঘরের দু’টি সোফায় রাখা ছিল আশিসবাবুর হাতের লেখা লম্বা চিঠি। আসলে তা সুইসাইড নোট। তা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে গোটা পরিবার। পুলিশ এসে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে আশিসবাবুর। সুস্মিতাদেবী বলেন, ‘আমরা তো একসঙ্গেই ঘুমিয়েছিলাম। কখন যে চুপচাপ নীচে নেমে গিয়েছে, তা বুঝতে পারিনি। ইদানীং ওর ঠিকমতো ঘুম হচ্ছিল না। কোনো প্রশ্ন করলে এক-দুটো কথায় উত্তর দিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে ওকে চোর বলা হচ্ছিল, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছিল, তাতে প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছিলেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিল।
আশিসবাবুর ছেলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মসূত্রে সপরিবারে কলকাতায় থাকেন। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে এদিন দুপুরে বাড়িতে আসেন তিনি। শতদল বলেন, ‘বাবা কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।’ আশিসবাবুর ভাইপো আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেঠু বলতেন, ‘ভদ্রভাবে রাজনীতি করে সৎ থেকেও শেষ বয়সে এসে কলঙ্ক নিতে হচ্ছে। সুইসাইড নোটে জেঠু আমাদের রাজনীতি না করার কথা বলে গিয়েছেন। ভালো মানুষের জন্য রাজনীতি নয়। আমরা আর কোনোদিন রাজনীতিতে থাকব না।’
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টিআরডিএর সঙ্গে আশিসবাবুকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। সুইসাইড নোটে আশিসবাবু লিখে গিয়েছেন, টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ডাকা ছাড়া তাঁর আর অন্য কোনো দায়িত্ব বা ভূমিকা ছিল না। তা সত্ত্বেও এই অপমান মেনে নিতে পারেননি। টিআরডিএর প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় শোক প্রকাশ করে বলেন, সুইসাইড নোট থেকেই বোঝা যাচ্ছে, আশিসদা নানা মিথ্যা রটনা নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর মতো সৎ মানুষ রাজনীতিতে বিরল। আজ এক প্রকৃত অভিভাবককে হারালাম। আশিসবাবুর বন্ধু বিশ্বনাথ তাপারিয়া বলেন, এই মানুষটি আজীবন বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করে এসেছেন। তাঁর মতো সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্বের বিদায় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল। এদিন তারাপীঠ মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য হয়। বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহা বলেন, আমরা তাঁকে কখনও অসম্মান করিনি। ভোটে জেতার পর বাড়ি গিয়ে প্রণাম করে এসেছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ