Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেজি দু’য়েক ছোলা খেয়ে ঘোড়ার মতো ছোটে, ভিআইপি খাতির পায় কুলতলির কালো মাণিক

কেজি দু’য়েক ছোলা খেয়ে ঘোড়ার মতো ছোটে, ভিআইপি খাতির পায় কুলতলির কালো মাণিক
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রতিদিন দেড় কিলো ছোলার গুঁড়ো খায়। গোটা ছোলা খায় আধ কিলো। আর দিতে হয় দেড় কেজি খোল। খেয়ে ভোঁসভোঁস করে ঘুমোয়। চাষবাস করে না। তার বদলে দিনেদুপুরে মাঠেঘাটে ছোটে এই বলদ। আর যেখানে যেখানে বলদ দৌড় প্রতিযোগিতা হয় সেখানে নাম দেয়। ঘোড়ার মতো তির গতিতে দৌড়য়। ফলে প্রাইজ বাঁধা। কুলতলিতে ভিআইপি মর্যাদা পায় বলদটি। মালিক ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ‘কালো মাণিক’।

Advertisement

যে কোনও দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করাই একপ্রকার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে কালো মাণিকের। মই অর্থাৎ লাঙল ছাড়া দৌড় প্রতিযোগিতার আসর যেখানে বসে, কালো মাণিককে দেখতে সেখানে ভিড় জমান আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষ। রবিরারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কুলতলির মেরিগঞ্জ এক নম্বর পঞ্চায়েতে বসেছিল বলদ দৌড়ের আসর। সেখানে বাকিদের হেলায় হারিয়ে জয়ী হয় কালো মাণিক। প্রতিযোগিতায় জিতবে কে? সবাই বলে, ‘কালো মাণিক ছাড়া কেউ নয়।’
এই বলদের বয়স আট বছর। গত ছ’বছর ধরে মই ছাড়া প্রতিযোগিতায় নামছে। বিস্তর পুরস্কার করায়ত্ত করেছে। তার মালিক হাফিজুল মোল্লা। তিনি দিন আনা দিন খাওয়া একজন মানুষ। কিন্তু পোষ্যকে তৈরি করতে চেষ্টার ত্রুটি করেন না। বলেন, ‘একে চাষের কাজে ব্যবহার করা হয় না। নিজে খেতে না পেলেও আমার ওর জন্য খাবার জোগাড় করি।’
রবিবার প্রতিযোগিতায় প্রথম রাউন্ডে একা দৌড়ে জয় ছিনিয়ে আনে কালো মাণিক। পরের রাউন্ডের নিয়ম অনুযায়ী দু’জন দৌড়য়। সে রাউন্ডে এক সঙ্গীকে যুক্ত করে দেওয়া হয়। তাতেও কেউ টেক্কা দিতে পারেনি কালো মাণিকদের। হাফিজুল জানান, সাধারণত ৯ বছর বয়স পর্যন্ত বলদ এমন প্রতিযোগিতায় দৌড়য়। কালো মাণিকের বয়স হয়েছে। আর কতদিন দৌড়তে পারবে বলা যাচ্ছে না। আর কুলতলির অনেকে বলেন, কালো মাণিক না থাকলে বলদ দৌড় প্রতিযোগিতার আকর্ষণ অনেক কমে যাবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ