নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গল তাঁবু জুড়ে আলোর মায়াজাল। মঙ্গলবার বিকেলে অনুশীলনের পর সমর্থকদের আব্দারে বন্দি নন্দ-ক্লেটনরা। ভিড় সামলাতে নিরাপত্তারক্ষী রীতিমতো জেরবার। হিজাজি, শৌভিকদের সঙ্গে কেক কাটলেন খুদে ফুটবলাররাও। বর্ষশেষের টুকরো ছবি অস্কার-ব্রিগেডের মেজাজ বোঝাতে যথেষ্ট। ঘরের মাঠে টানা দু’টি ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর গনগনে মশালবাহিনী। এমনকী ক্ষীণভাবে উঁকি দিচ্ছে সুপার সিক্সের স্বপ্ন। শনিবার হায়দরাবাদকে হারিয়ে তা আরও উস্কে দিতে তৈরি গোটা দল। জিতলে ১৬ পয়েন্ট পকেটে পুরবে ইস্ট বেঙ্গল। প্রথম ছয় ম্যাচে হারের পর যা অলীক কল্পনা ছিল থিঙ্কট্যাঙ্কের কাছে। চারমিনারের শহরে আরও একটা ধামাকা দিতে প্রস্তুতি লাল-হলুদ ব্রিগেড। ক্লাব ছাড়ার আগে ক্লেটন বলে গেলেন, ‘সব ম্যাচই কঠিন। ফাইনাল ভেবে মাঠে নামতে হবে।’
Advertisement
অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে শুক্রবার নিজামের শহরে পৌঁছবে ইস্ট বেঙ্গল। প্রতিপক্ষ কেমন? টেলিভিশনে হায়দরাবাদ বনাম নর্থইস্ট ম্যাচ দেখে পরিকল্পনা কষছেন স্প্যানিশ কোচ। ফুটেজ কাটাছেঁড়া চলছে নিরন্তর। দৌড় আর ফিটনেস প্রতিপক্ষের সম্পদ। তবে রক্ষণ পোক্ত নয়। ১২ ম্যাচে এখনও অবধি ২৫ টি গোল খেয়েছে তারা, যা চলতি টুর্নামেন্টে সর্বাধিক। দুই উইং ব্যাক ক্রমাগত ওভারল্যাপে আসায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। অন্যদিকে অস্কারের হাতে বিষ্ণু, নন্দ, নাওরেম মহেশের মতো উইং-হাফ রয়েছেন। হায়দরাবাদ ডিফেন্সের দুর্বলতা কাজে লাগানোই স্প্যানিশ কোচের লক্ষ্য। এই ধরণের ম্যাচে দ্রুত লক্ষ্যভেদ জরুরি। অন্যথায় সময় গড়ানোর সঙ্গে চাপ বাড়বে দলের উপর। অ্যাওয়ে ম্যাচেও আক্রমণাত্মক ফুটবলের স্ট্র্যাটেজি বদলাতে নারাজ ব্রুজোঁ। দিয়ামানতাকোস, বিষ্ণু গোল পাচ্ছেন। মাধি তালালের ডামির ভূমিকায় ক্লেটনও ঝলমলে। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার গোলের কাছে পৌঁছলেও লক্ষ্যভেদ এখনও অধরা। তা নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামাতে নারাজ ক্লেটন । তাঁর মন্তব্য, ‘চেষ্টা করছি। আশা করি ভাগ্য সঙ্গ দেবে। তবে নিজের গোল নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত নই। বরং দলের জয়টাই আসল। হায়দরাবাদকে হাল্কাভাবে নেওয়ার কোনও জায়গা নেই। জয়ের জন্য দ্রুত গোল তুলে নিতে হবে।’ এদিকে, চোটের কারণে মহম্মদ রাকিপকে পাবেন না অস্কার। কার্ড সমস্যায় নেই হেক্টর ইউস্তে। তাঁর জায়গায় আনোয়ারের স্টপারে খেলার সম্ভাবনা। উইং ব্যাকে প্রভাত লাকরা বা নিশু কুমারের মধ্যে একজনকে খেলানো হবে।



