সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ায় বিভিন্ন কারখানা সংলগ্ন সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ট্রেড ইউনিয়ন অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এইচডিএ)। কারখানা সংলগ্ন এইচডিএ-এর রোড করিডর জমিতে ওই ট্রেড ইউনিয়নের নাম করে ওই অফিসগুলি তৈরি হয়েছিল। পাকা দেওয়াল তুলে তৈরি হয়েছিল স্থায়ী ঝাঁ চকচকে অফিস। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বুলডোজারের গুঁতোয় ভাঙা হয় ওই অফিসগুলি। এদিন হলদিয়ার আদানি ইউনিট ২, রিলায়েন্স টার্মিনাল, বিপিসিএল ও মার্কাস অয়েল কারখানার গেট সংলগ্ন ট্রেড ইউনিয়ন অফিস ভাঙা হয়। ওই অফিসগুলি সবই তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি তৈরি করেছিল। রাজ্যে সরকার বদলের পর দেখা যায়, কয়েকটি অফিস ঘরের রং রাতারাতি বদলে গেরুয়া হয়ে গিয়েছিল। কোনো অফিসের দেওয়ালে আবার নতুন করে লেখা হয়েছে বিশ্বকর্মা পুজো কমিটির অফিস। একমাত্র রিলায়েন্স গেটের সামনের ট্রেড ইউনিয়ন অফিসে আইএনটিটিইউসির চিহ্ন ছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ জুলাই এইচডিএর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দখলদারদের নোটিস দেওয়া হয়। সেই নোটিসের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বুলডোজার নামিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এইচডিএর আধিকারিক এবং ভবানীপুর থানার পুলিশ আধিকারিক ও মহিষাদলের সার্কেল ইন্সপেক্টর। নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ আগেই মাইকে প্রচার করে। এদিনও উচ্ছেদ অভিযানের আগে মাইকিং করে অফিসের সামগ্রী সরাতে বলা হয়। এদিন শিল্পাঞ্চলে জবরদখল করে তৈরি ট্রেড ইউনিয়নের অফিস ভাঙার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কারখানার গেটের সামনে এইচডিএ-র জমিতে অনুমোদনহীন ট্রেড ইউনিয়ন অফিস ভাঙার মাধ্যমে প্রশাসন শিল্পাঞ্চলে জবরদখল নিয়ে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে। যদিও এনিয়ে পুলিশ ও প্রশাসন কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। হলদিয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলে জবরদখল সরানো নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করছে এইচডিএ। অতি দাহ্য পণ্যবাহী পাইপলাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অফিস সরানোর জন্য নোটিস দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান এইচডিএ-র চেয়ারম্যান তথা জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। -নিজস্ব চিত্র



