Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশি তরুণীদের মাধ্যমে জমিয়ে চলছে হাওলা কারবার, নারী পাচার তদন্তে অবাক সিআইডি

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়ায় তরুণীদের মাধ্যমে হাওলার টাকা আসছে। তা জমা পড়ছে এখানকার দালালদের হাতে। তারা অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র চালাচ্ছে।

বাংলাদেশি তরুণীদের মাধ্যমে জমিয়ে চলছে হাওলা কারবার, নারী পাচার তদন্তে অবাক সিআইডি
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়ায় তরুণীদের মাধ্যমে হাওলার টাকা আসছে। তা জমা পড়ছে এখানকার দালালদের হাতে। তারা অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র চালাচ্ছে। নারী পাচারের তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পেয়েছে সিআইডি। একইসঙ্গে বনগাঁ, স্বরূপনগরসহ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় নারী পাচার চক্রের একাধিক সিন্ডিকেটের নাম পাচ্ছে তারা। এই সিন্ডিকেট ভাঙাই লক্ষ্য তদদন্তকারীদের। 

Advertisement

দিনপনেরোর মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি তরুণীকে সিআইডি উদ্ধার করেছে। ওইসঙ্গে ধরা পড়েছে পাঁচ অভিযুক্তও। তারা সকলেই স্বরূপনগর এবং বনগাঁর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। 
ধৃতদের জেরা থেকে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সীমান্ত এলাকায় অনেক লোক নারী পাচারে জড়িত। বাংলাদেশে নারী পাচারে ব্যস্ত দুর্বৃত্তদের সঙ্গে প্রতিটি সিন্ডিকেটের যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি বেঙ্গালুরু, মুম্বইয়ের যে-সমস্ত হোটেল বা স্পা সেন্টারের মালিক বাংলাদেশি মেয়েদের ‘কিনছে’ তারাও সরাসরি যোগাযোগ রাখছে সীমান্তের ওপারের এই অবৈধ কারবারিদের সঙ্গে। তাদের এজেন্টরা সীমান্তে চলে এসে মেয়েগুলিকে সরাসরি ভিন রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে। দৈনিক গড়ে আট থেকে দশজন তরুণীকে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হচ্ছে। আধার, ভোটার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি (জাল) এখানে তৈরি করেই  ভিন রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে মেয়েগুলিকে। তদন্তে প্রকাশ, বাংলাদেশ থেকে আসা তরুণীদের হাতে বাংলাদেশি টাকা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে আসার পর এই টাকা তারা তুলে দিচ্ছে এখানকার দালালদের হাতে। তারা আবার অবৈধভাবে মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রও চালাচ্ছে। দালালরা সেখানে বাংলাদেশি টাকা বদলে ফেলছে রুপি বা ভারতীয় মুদ্রায়। সেই টাকা যাচ্ছে বিভিন্ন চোরাচালানকারীর কাছে। সেগুলি পেমেন্ট হিসেবে ফিরছে তাদেরই হাতে। একইসঙ্গে যে-সমস্ত বাংলাদেশি তরুণী কয়েকবছর ভারতে কাটিয়ে আবার নিজের দেশে ফিরছে, টাকা পাচার করা হচ্ছে তাদের মাধ্যমেও। ভিন রাজ্যের ‘ক্রেতারাই’ মূলত বাংলাদেশে ফেরা তরুণীদের মাধ্যমে সেখানকার দুর্বৃত্তদের কাছে টাকা পাঠাচ্ছে।  তাদের মাধ্যমে হাওলা কারবারের টাকা পাঠানোর কায়দা দেখে রীতিমতো উদ্বিগ্ন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তরা জেরায় সিআইডি’কে জানিয়েছে, পুরো চেন কমপ্লিট হলেই তারা টাকার ভাগ পেয়ে থাকে। এক একজন দালালকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।  সীমান্তে নারী পাচারে যে সিন্ডিককেটের নাম উঠে এসেছে, তাদের খোঁজ শুরু করেছে সিআইডি। চেনের সকলকে ধরাই লক্ষ্য। এই কারবারে রাশ টানার জন্য এমন পদক্ষেপ জরুরি। মত তদন্তকারীদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ