Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪ দিন ধরে প্ল্যান, গিরিশ পার্কে খুনের আড়ালে হাওলা কারবার

৪ দিন ধরে প্ল্যান, গিরিশ পার্কে খুনের আড়ালে হাওলা কারবার
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাপড় ব্যবসায়ী ভাগারাম দিওয়াসিকে খুনের নেপথ্যে হাওলা যোগ? খাস কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় খুনের তদন্তে নেমে এমনই নতুন তথ্য হাতে এসেছে পুলিসের। জানা যাচ্ছে, বড়বাজারের ব্যবসায়ী ভাগারাম দুই অভিযুক্তের সঙ্গে মিলে বহুদিন ধরেই হাওলা কারবার চালাতেন। ওই টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে লাগাতার গোলমাল চলছিল। তার সঙ্গে জুড়েছিল ব্যবসার জন্য জামা-কাপড় বাবদ টাকা না মেটানো। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনই তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। কত টাকার লেনদেন হয়েছিল? এখন খোঁজ চলছে এই অঙ্কেরই।

Advertisement

ভাগারামের দেহ যেভাবে ট্রলি ব্যাগে ভরা হয়েছিল, তার থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট—ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করেই এই খুন। ধৃত কৃষ্ণপাল সিং ও করণ প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, রাগের মাথায় এই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে তারা। তদন্তকারীরা জানতে চান, তাহলে দেহ ভরার জন্য নতুন ট্রলিব্যাগ এল কোথা থেকে? খুনের জন্যও তো তাহলে পুরনো কিচেন নাইফ ছাড়া ব্যবহারের কিছু ছিল না! তা তো হয়নি? দীর্ঘ জেরায় ভেঙে পড়ে অভিযুক্তরা প্ল্যানের কথা স্বীকার করে। জানায়, প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ভাগারামকে কোনও গেস্ট হাউজ বা হোটেলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হবে। কিন্তু সেখানে সিসি ক্যামেরায় তাদের ছবি ধরা পড়ে যাবে ভেবেই বদলানো হয় পরিকল্পনা। ঠিক হয়, মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের বাড়িতে ডেকে খুন করা হবে ওই ব্যবসায়ীকে। তবে দেহ ঘরে রাখা যাবে না। কারণ, দুর্গন্ধ ছড়ালেই টনক নড়ে যাবে পুলিসের। তাই দেহ লোপাটের ব্লু-প্রিন্ট। দেহ ব্যাগে বা বক্সে ভরে হাপিস করার বেশ কয়েকটি ভিডিও তারা দেখেছিল। সেখান থেকেই দেহ ব্যাগবন্দি করে জলে ভাসিয়ে দেওয়ার ভাবনা। একমাত্র এই ফর্মুলাতেই কোনও চিহ্ন থাকবে না। দেহ পাওয়া গেলে তা পচেগলে যাবে। তাই পরিচয় জানতে অনেক সময় লাগবে। ততক্ষণে তারা পালিয়ে যেতে পারবে। খুন যে কৃষ্ণপালরাই করেছে, তা প্রমাণ করাও কঠিন হবে।
দুই অভিযুক্ত জেরায় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভাগারামকে মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে ডেকে পাঠানোর প্ল্যান ছিল। তার চারদিন আগে তারা বড়বাজারে গিয়ে ট্রলির খোঁজ করে। ভাগারামের দেগের গঠন ও উচ্চতা অনুযায়ী ব্যাগ বাছাই করা হয়। মাপ অনুয়াযী ব্যাগ কিনে তারা যায় ওই এলাকার একটি ছুরির দোকানে। সেখানে অর্ডার দিয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে নতুন ছুরি তৈরি করে। তারপর নাইলনের দড়ি কিনে ফিরে আসে মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে। খুনের পর ওই ট্রলিতেই ভরা হয় ব্যবসায়ীর দেহ।
কিন্তু খুনের মোটিভ কী? দুই অভিযুক্ত জানিয়েছে, প্রথমে ভাগারাম তাদের কাছে কাজ করত। এরপর নিজে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে। তারাই মাল সরবরাহ করত। তদন্তে উঠে এসেছে, করণ ও কৃষ্ণপাল দুজনেই কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে হাওলা কারবার চালাচ্ছে অনেকদিন ধরে। রাজস্থান সহ বিভিন্ন জায়গায় তারা হাওলার মাধ্যমে টাকা পাঠাত ও নিয়ে আসত। অনেক ব্যবসায়ীর কালো টাকা তারা এভাবে ভিন রাজ্যে পৌঁছে দিয়েছে। ভাগারামের হাওলা কারবারের শুরু তাদের হাত ধরেই। তাঁর হাওলা কারবার দাঁড়িয়ে যাবার পরেও কৃষ্ণপালদের থেকে নেওয়া টাকা তিনি ফেরত দিচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ। তাতেই ভাগারামের সঙ্গে তাদের সর্ম্পকের অবনতি হয়। তারপরই খুনের সিদ্ধান্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ