নয়াদিল্লি: চলতি বছরেই যে দেশে ফিরছেন, তা আগেই ঘোষণা করেছিলেন শেখ হাসিনা। এবার বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, ডিসেম্বর মাসেই আওয়ামি লিগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। নিজের ইচ্ছাতেই ফিরবেন তিনি। রয়টার্সকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাত্কারে হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফিরলেই ওরা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, মেরেও ফেলতে পারে। কিন্তু আমাকে ফিরতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। মৃত্যু যদি আসেই, তা যেন নিজের দেশের মাটিতেই হয়। যেখানে আমার বাবা-মায়ের রক্তও ঝরেছিল, যেখানে তাঁরা কবরে শায়িত আছেন।’ তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রশাসনের তরফে যে একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তাও কার্যত মেনে নিয়েছেন হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সরকার যখন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন ভুল-ত্রুটি হতেই পারে—কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু সরকারের ভালো-মন্দ এবং ঠিক-ভুল বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচারের ভার আমি জনগণের উপরই ছেড়ে দিলাম।’
২০২৪ সালের আগস্টে প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছাড়াতে বাধ্য হন হাসিনা। ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। তারপর থেকে ভারতেই রয়েছেন তিনি। ঢাকা একাধিকবার হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য দিল্লিকে বললেও পরিস্থিতি বদলায়নি। হাসিনা পরবর্তী সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ফের জোড়া লাগার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশিদের জন্য ফের পর্যটন ভিসা চালু করেছে দিল্লি। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে থাকাকালীন গণহত্যা মামলায় হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁর আমলের কয়েকজন মন্ত্রীকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি হাসিনার দল আওয়ামি লিগকেও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হাসিনা জানান, তিনি জেলে যেতে ভয় পান না। এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। কিন্তু যেভাবে তাঁর দল আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের অত্যাচারের শিকার হতে হচ্ছে, তা ঠিক নয়। হাসিনা বলেন, ‘ওরা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আমি হয়ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু ওরা আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করবে কেন? আমরা যদি ভুল কিছু করে থাকি, তাহলে জনগণই সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী। আমার ধারণা, বিচার শুরু হলেই মানুষ বুঝতে পারবে, এই আদালত আদতে প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।’