ওয়াশিংটন, ১৫ এপ্রিল: ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন দাবি মানেনি বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাই এবার তাঁদের আর্থিক সাহায্যের উপর কোপ পড়ল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে ২২০ কোটি ডলারের আর্থিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করল মার্কিন প্রশাসন। এরই পাশাপাশি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তাও স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু কেন এই পদক্ষেপ নিল মার্কিন প্রশাসন। হামাস ও ইজরায়েলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র পশ্চিম এশিয়া ও গাজায় বিক্ষোভ প্রদর্শন থেমে থাকেনি। আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও প্যালেস্তানীয়দের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বহু পড়ুয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে বা বাইরে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আমেরিকার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়াতেও দেখা গিয়েছিল বেশ কিছু পড়ুয়াকে, এমনটাই অভিযোগ মার্কিন প্রশাসনের। এমনকী এইধরনের পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কোনও পদক্ষেপ করছে না, বলেও অভিযোগ করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ বন্ধ করার জন্য কী কী করা উচিত সেই কথা জানিয়ে বেশ কিছু শর্তাবলি আরোপের কথা জানিয়েছিল ট্রাম্পের প্রশাসন। তাতে বলা হয়েছিল, ওই শর্তগুলি না-মানলে শাস্তিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্থিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করা হবে। যার তীব্র বিরোধিতা করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্বার। তাঁর দাবি, ওই শর্তগুলি মানলে শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার সঙ্গে আপস করা হবে। আর তাতেই কোপ পড়ল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। গতকাল, সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের অফিস থেকে বলে দেওয়া হয়, হার্ভার্ডকে ২২০ কোটি ডলারের আর্থিক সাহায্য করা হবে না। যদিও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার উপর এই পদক্ষেপ করায় ট্রাম্পের প্রশাসনের উপর বেজায় চটেছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতির কাছে মাথা নত না করায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।