Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রোমোটার সফিক খুনে অভিযুক্ত হারুনের অস্ত্রভাণ্ডার পিলখানাতেই, দাবি পুলিশের

প্রোমোটার সফিক খানকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন আসলে আর্মস ডিলার।  বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে বিভিন্ন দুষ্কৃতীদের সরবরাহ করাই তার কাজ

প্রোমোটার সফিক খুনে অভিযুক্ত হারুনের অস্ত্রভাণ্ডার পিলখানাতেই, দাবি পুলিশের
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রোমোটার সফিক খানকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন আসলে আর্মস ডিলার।  বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে বিভিন্ন দুষ্কৃতীদের সরবরাহ করাই তার কাজ। দীর্ঘদিন ধরেই সে এ কারবারে যুক্ত। পিলখানা এলাকাতেই  রয়েছে তার অস্ত্র ভাণ্ডার। খুন কাণ্ডের তদন্তে নেমে এই তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। হারুন গ্রেপ্তার হলেই  এই অস্ত্র কোথায় লুকিয়ে রেখেছে জানার চেষ্টা করবেন তাঁরা।

Advertisement

খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন এখনও অধরা। বুধবার ভোরে যে নাইন এম এম পিস্তল থেকে সে ও তার সহযোগী গুলি করল সফিককে, তা এল কোথা থেকে, তার খোঁজ শুরু হয়। তদন্তকারীরা জেনেছেন, হারুনের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে। শার্প শ্যুটার রাফাকাত হুসেনকে সে আর্মস সরবরাহ করেছিল। তা নিয়ে এসেছিল পিলখানায় একটি অবৈধ ফ্ল্যাটের মজুত ভাণ্ডার থেকে। এখান থেকেই তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, প্রচুর অস্ত্র মজুত করেছে হারুন। তার কল ডিটেইলস ও বিভিন্ন সূত্র মারফত অফিসাররা জানতে পারেন. তোলাবাজি, বন্ধ কারখানা দখল বা জমি কবজা করার জন্য তার একটি টিম রয়েছে। তার শাগরেদদের প্রত্যেককে আর্মস দিয়ে রেখেছে হারুন। কোথাও জমি দখল করতে গেলে বন্দুকবাহিনী সামনে থাকে। আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তারা ব্যবসায়ীদের ভয় দেখায়। প্রকাশ্যেই তার দলবল আর্মস নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বলে অভিযোগ।
কিন্তু এই আর্মস আসছে কোথা থেকে? খোঁজ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, বিহারের ভাগলপুরের সঙ্গে হারুনের বহু পুরনো যোগাযোগ। সেখানকার বেআইনি অস্ত্র কারবারিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। প্রথমে নিজের গ্যাংয়ের জন্য হারুন অস্ত্র আনা শুরু করে। ট্রেনে বা সড়কপথে এই আর্মস নিয়ে আসা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রের ভাণ্ডার তৈরি করা হয় পিলখানায়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র মজুত রাখা হচ্ছে।  তার গ্যাংয়ে বেশ কয়েকজন শার্প শ্যুটার রয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় সুপারি নিয়ে সে শার্প শ্যুটারদের ‘অপারেশনে’ পাঠাত। এমনকী অপহরণও করত তার গ্যাং। অপহরণের এক মামলায় সে গ্রেপ্তারও হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, হারুনের সঙ্গে কুখ্যাত অপরাধীদের যোগাযোগ রয়েছে। তার বাড়িতে আসত এই সমস্ত অপরাধীরা। সেখানে বিভিন্নজনকে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে অপহরণের পরিকল্পনা করা হত।  তদন্তকারীরা জেনেছেন, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার শুরু করার পর থেকে হারুনের কাছ থেকে হাওড়া সহ বিভিন্ন এলাকার দুষ্কৃতীরা তা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।  হারুন হাতে এলেই সে কাদের কাছ থেকে আর্মস পেত এবং কোথায় কোথায় সরবরাহ করত, জেরা করে জানতে চান তদন্তকারীরা।

সম্পর্কিত সংবাদ