Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

হরি

“সৎসঙ্গতির অপার ও অসীম মহিমা।” হরির সাধুজনদের সৎসঙ্গতিতে মিলিত হও এবং তাদের সঙ্গতিতে একত্র হয়ে হরির গুণ গাইলে হৃদয়ে জ্ঞান-রত্ন উস্কীপিত হবে এবং হৃদয় রাজ্যে আলোকিত হবে যার ফলস্বরূপ অজ্ঞানরূপী অন্ধকার অপসৃত হবে।

হরি
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

“সৎসঙ্গতির অপার ও অসীম মহিমা।” হরির সাধুজনদের সৎসঙ্গতিতে মিলিত হও এবং তাদের সঙ্গতিতে একত্র হয়ে হরির গুণ গাইলে হৃদয়ে জ্ঞান-রত্ন উস্কীপিত হবে এবং হৃদয় রাজ্যে আলোকিত হবে যার ফলস্বরূপ অজ্ঞানরূপী অন্ধকার অপসৃত হবে। হে হরির সেবকরা! হরির ধ্যান কোরে হরির জন্য নৃত্য করো। হে আমার ভাই! যদি এমন সন্তদের পাই তাহলে আমি ওই হরির দাসদের চরণ ধুয়ে দিই।

Advertisement

হে আমার মন! দিন-রাত হরিতে চিত্ত-নিবেশ কোরে হরি হরির নাম জপ করো! এভাবে তুমি যা ইচ্ছে করবে সেই ফলই পাবে। বাসনার ক্ষুধা আর তোমার মধ্যে জাগবে না। হরি কর্তা স্বয়ংই অপরম্পার, হরি স্বয়ংই সবার মধ্যে কথা বলেন ও বলান। হে হরি! যে তোমার প্রিয় হয় ও তোমার দ্বারে যার মন স্বীকৃত হয়, সে সন্তজন শ্রেষ্ঠ। নানক হরির গুণ গেয়ে তৃপ্ত হন না। যেমন যেমন তিনি আরও বেশি বর্ণনা করেন, তেমন তেমন আরও বেশি সুখ পান। হরি আমার গুরুদেবকে ভক্তির ভাণ্ডার সঁপেছেন, কিন্তু গুরুর কাছ থেকে কোন গুণগ্রাহী তা কিনে নিয়ে যায়।
আদিকাল থেকেই মৃত্যু আছে, কিন্তু এই জীব অহঙ্কারের দরুন মৃত্যু হলে ক্রন্দন করে। হে জীব! গুরুর মাধ্যমে নামের ধ্যান করো তাহলে তুমি স্থির হতে পারবে। পূর্ণ গুরুর এটা কৃতিত্ব যার মাধ্যমে এই সংসার থেকে চলে যাওয়া যায়। সারবস্তু ও শ্রেষ্ঠ নামের উপকার লাভ কোরে গুরুর শব্দ দ্বারা ‘তাঁর’ মধ্যে লীন হয়েছি।
হে মা! পূর্ব লিখিত দিন আগত। আজ কিংবা কাল এখান থেকে চলে যেতে হবে কারণ প্রথম থেকেই এমন আদেশ প্রভু দিয়েছেন।
তার মনুষ্য জন্ম বৃথা যে নাম বিস্মৃত হয়েছে কারণ জগতে এসে এখানকার জুয়া খেলায় মত্ত থেকে এই মন হেরে গেছে। যে গুরু লাভ করেছে, সে জন্ম-মৃত্যুতে সুখ পেয়েছে। হে নানক! সত্যের দরুন সে সত্য পুরুষ সত্যস্বরূপ প্রভুতে লীন হয়ে গেছে।
“নামের অপার ও অসীম মহিমা।”
যে মনুষ্য জন্ম রূপী বস্তু লাভ করার পর নামের ধ্যান করেছে, সে গুরুর কৃপাতে তত্ত্ব বস্তু ও মিথ্যা বস্তু উভয়কে বুঝে নিয়ে সত্যস্বরূপ প্রভুতে লীন হয়েছে। যার কপালে প্রথম থেকেই প্রভুর শুভ লিখন রয়েছে, সেই নাম সঞ্চয় করতে পেরেছে। সে সত্য প্রভুর দ্বারে সত্যপদ পায় ও অন্দর মহলে তার ডাক পড়ে। অন্তঃকরণে নামের ভাণ্ডার রয়েছে, কিন্তু গুরুর মাধ্যমেই একে পাওয়া যায়। অতএব হে প্রিয়! পাওয়ার জন্য দিন-রাত নামের ধ্যান করো ও হরির গুণ গাও।
‘আদি শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহেব’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ