


সুইজারল্যান্ড, ৮ মে: বিশ্বের নয়া আতঙ্ক হান্টাভাইরাস। সাম্প্রতি আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা একটি জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসের একাধিক যাত্রীর শরীরে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পরে। ইতিমধ্যেই ৩ জনের মৃত্যুর খবরও এসেছে এই ভাইরাসের সংক্রমণে। আর তার জেরেই বিশ্বজুরে নয়া উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এই হান্টাভাইরাস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই জাহাজের সঙ্গে যুক্ত মোট ৮টি সংক্রমণের খোঁজ মিলেছে। তার মধ্যে ৫ জনের শরীরে হান্টাভাইরাস নিশ্চিতভাবে পাওয়া গিয়েছে। আরও ৩ জনকে সন্দেহজনকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিশ্চিত করেছে, এটি নতুন কোনও ভাইরাস নয় এবং কোভিড-১৯ এর মতো এর থেকে কোনো অতিমারীর আশঙ্কাও নেই। সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়েছে, 'হান্টাভাইরাস করোনাভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়ায় না। বর্তমান পরিস্থিতিকে প্যানডেমিক হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই'।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মলের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই জাহাজে কীভাবে সংক্রমণ ছড়াল, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনার পর আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইৎজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও তুরস্ক-সহ মোট ১২টি দেশকে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিক ওই জাহাজে ছিলেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যেই ওই জাহাজে পৌঁছেছে। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন নেদারল্যান্ডসের এক চিকিৎসক এবং ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের এক বিশেষজ্ঞ। কানারি আইল্যান্ডসে পৌঁছনো পর্যন্ত তাঁরা জাহাজেই থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। বর্তমানে কোনও যাত্রীর শরীরে নতুন করে উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে এর উপসর্গ ৬ সপ্তাহ পরেও ধরা দিতে পারে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।