Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অর্ধেক জুনিয়র হাইস্কুলই শিক্ষকহীন, নেই পড়ুয়াও

কোথাও স্কুল ভবন, ছাত্রছাত্রী থাকলেও শিক্ষক নেই। আবার কোথাও শিক্ষক-শিক্ষিকারা থাকলেও পড়ুয়া নেই। বনগাঁ মহকুমায় এখন প্রায় অর্ধেক জুনিয়র হাইস্কুলই শিক্ষক শূন্য।

অর্ধেক জুনিয়র হাইস্কুলই  শিক্ষকহীন, নেই পড়ুয়াও
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: কোথাও স্কুল ভবন, ছাত্রছাত্রী থাকলেও শিক্ষক নেই। আবার কোথাও শিক্ষক-শিক্ষিকারা থাকলেও পড়ুয়া নেই। বনগাঁ মহকুমায় এখন প্রায় অর্ধেক জুনিয়র হাইস্কুলই শিক্ষক শূন্য। একইভাবে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ স্কুলে নেই একজনও পড়ুয়া। শিক্ষা ব্যবস্থার এই পরিসংখ্যান নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও এই পরিসংখ্যান নিয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অতিরিক্ত জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক)। প্রতিক্রিয়া দিতে নারাজ অফিসের আধিকারিকরাও। তবে কিছু স্কুল যে পড়ুয়াহীন, তা মেনে নিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকার কথাও অস্বীকার করতে পারেননি তাঁরা’।

Advertisement

জানা গিয়েছে, বনগাঁ মহকুমায় ২২টি জুনিয়র হাইস্কুলের মধ্যে অর্ধেকের বেশি স্কুলে শিক্ষক নেই। অন্যদিকে, প্রায় ছ’টি এমন স্কুল রয়েছে, যেখানে একজনও পড়ুয়া নেই। একজন করে শিক্ষক রয়েছেন একাধিক স্কুলে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বনগাঁ শিবপদ হালদার স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে মাত্র দু’জন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষিকা রয়েছেন। তাঁরা নাম কে ওয়াস্তে স্কুলে আসেন। কারণ এখানে একজনও পড়ুয়া নেই। বর্তমান শিক্ষকদের কথায়, ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকের পদ ফাঁকা হতে শুরু করে। তখন থেকেই কমতে থাকে পড়ুয়ার সংখ্যা। বর্তমানে ইংরেজি, ভূগোল ও শারীরশিক্ষার তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। করণিক ও গ্রুপ ডি কর্মী নেই। গত তিন বছর ধরে স্কুলটি পড়ুয়া শূন্য রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় রায় বলেন, ‘মূলত সব বিষয়ে শিক্ষক না থাকা এবং আশপাশে একাধিক হাইস্কুল থাকায় এই স্কুল পড়ুয়া শূন্য হয়ে পড়েছে’। পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে দায়ী করেছেন তিনি। শিক্ষকদের দাবি, স্কুলে এসে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে না পারাটা খুবই যন্ত্রণার। আমরা চাইস প্রশাসন দ্রুত এই স্কুলের দিকে নজর দিক।
গাইঘাটা ব্লকের শশাডাঙা জুনিয়র হাইস্কুল, শিমুলিয়া হাঁসপুর জুনিয়র হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুলে শিক্ষক নেই, পড়ুয়াও নেই। বাগদা ব্লকে দিয়ারা জুনিয়র হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল শিক্ষক ও পড়ুয়া শূন্য। অনেক স্কুলে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। বনগাঁর বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অজয় মজুমদার বলেন, ‘নাগরিকরা ইংরেজি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে শিখেছেন। তাঁরা সন্তানদের বাংলা ভাষার সরকারি স্কুল ছেড়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন। এর জন্য দায়ী সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অভাব’।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ