নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও মেদিনীপুর: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় গ্রেপ্তারের পর সিআইডির নজরে এখন হাফডজন ব্যবসায়ী। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল মালিক ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। যাঁদের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা টাকা জমা পড়ত বলে অভিযোগ। এই ব্যবসায়ীরা সকলেই সুমিতের ঘনিষ্ঠ বলে জেনেছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের খুব শীঘ্রই ডেকে পাঠানো হচ্ছে বলে খবর। পাশাপাশি ’গা-ঢাকা দেওয়া’ পর্বে আপ্ত সহায়ককে আমলাদের একাংশ সাহায্য করছিলেন বলে খবর। তাঁর মোবাইল ঘেঁটে এই তথ্য মিলেছে বলে জানা যাচ্ছে। যে আমলাদের বিভিন্ন সময়ে তিনি শাঁসালো জায়গায় পোস্টিং পেতে সাহায্য করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই আবর্তে শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুমিত রায়কে শুক্রবার মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে আট দিনের সিআইডি হেপাজতে পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর রাতভর ভবানীভবনে সুমিতকে জেরা করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর এদিন বেলা ১১ টানা নাগাদ তাঁকে নিয়ে মেদিনীপুর আদালতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। আদালত চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন ছিলেন একাধিক থানার পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে এসডিপিও এবং আইসি পদমর্যাদার আধিকারিকরা। এজলাসেও ছিল পুলিশের কড়া নজরদারি। সিআইডির তরফে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালতে সুমিতের পক্ষে এদিন জামিনের আবেদন করা হয়নি। সূত্রের খবর, সুমিতের হয়ে সওয়াল করার জন্য কোনও আইনজীবী দাঁড়াতে চাননি। পরে আইনি পরিষেবা কেন্দ্রের তরফে তাঁর জন্য আইনজীবীর ব্যবস্থা করা হয়। তবে এদিন সুমিতের পক্ষ থেকে দুটি আবেদন জানানো হয়। শারীরিক সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করে চিকিৎসা সংক্রান্ত সহযোগিতার আবেদন করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর আইনজীবী যাতে উপস্থিত থাকতে পারেন, সে আবেদনও জানানো হয়। সিআইডি জেনেছে, প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল টাকা আসত সুমিত রায়ের কাছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস কী এবং প্রভাবশালী কার কাছে ওই টাকা যেত, তাঁকে জেরা করে জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।