নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনার পর দু’দিন কেটে গেলেও গুলশন কলোনির বোমা-গুলি কাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত মিনি ফিরোজ এখনও অধরা। পুলিসের অনুমান, বিহারে পালিয়ে গিয়েছে সে। পলাতক অবস্থায় সেখানকার ডেরায় বসেই ফেসবুক ভিডিও বার্তায় (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর তথা বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষকে কার্যত হুমকি দিয়েছে মিনি ফিরোজ। এমনকী সুশান্ত’র প্রশংসা করার কারণে মিরাজ শেখ নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ওই ভিডিও বার্তায় মিনি ফিরোজ দাবি করেছে, ঘটনার সময় সে এলাকাতেই ছিল না। তাকে ফাঁসানোর জন্য সুশান্ত ঘোষ পরিকল্পনা করে এই হামলা ঘটিয়েছে। তাই বোমাবাজি শুরুর আগে এলাকায় মোতায়েন পুলিস গাড়ি সরে যায়। তারপরই এই হামলার ঘটনা। পাশাপাশি তার প্রশ্ন, সত্যি সে দুষ্কৃতী হলে, ইলেকশনের সময় সুশান্ত ঘোষ তাকে কেন ব্যবহার করেছিলেন? এরপরই সুর চড়িয়ে ফিরোজের হুমকি, দাদা, আমার সঙ্গে সোজা ব্যবহার করলে, আমি সোজা। আর বাঁকা হওয়ার চেষ্টা করলে, আমি আরও বাঁকা হব। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাসক দলের কাউন্সিলর তথা বরো চেয়ারম্যান সুশান্তবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিহারে পালিয়ে যাওয়া একটা দাগী দুষ্কৃতীর কথাকে কোনও গুরুত্ব দিতে চাই না! মিনি ফিরোজের সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপ কলে যোগাযোগ করা হলে, বিহারে থাকার কথা সে স্বীকার করেছে। তার দাবি, আনন্দপুর থানার সেকেন্ড অফিসারের সাথে কথোপকথন সহ সমস্ত অভিযোগের প্রমাণ, তার কাছে রাখা আছে। একসময়ে গুলশন কলোনিতে আধিপত্য বিস্তার করলেও, সুশান্ত ঘোষ কাউন্সিলার হওয়ার পর থেকে গুটিয়ে যায় মিনি ফিরোজ। এলাকায় তেমন ভাবে আর প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও, বন্দর এলাকায় শাসকদলের এক যুবনেতার আশ্রয়ে থেকে নতুন করে ‘গুটি’ পাকাচ্ছিল সে। ওই পর্বে সেখানে শাসকদলের এক অনুষ্ঠান মঞ্চে মিনি ফিরোজকে কীভাবে দেখা গিয়েছিল, সে বিষয়েও খোঁজ খবর করছে পুলিস।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনন্দপুর থানার গুলশন কলোনিতে বেআইনি নির্মাণ কারবারের দখলকে কেন্দ্র করে দুষ্কতী তাণ্ডব চলে। ভাঙচুরের পাশাপাশি চলে গুলি-বোমা। একজন জখম হয়। ঘটনার পর কলকাতা পুলিস নারকেলডাঙা ও এন্টালি থানা এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় মহম্মদ নাফিস ওরফে আমবার নামে মিনি ফিরোজের আরও এক শাগরেদকে।