তাপস কাঁড়ার: চিৎপুরের অলিগলি থেকে ভেসে আসে গজলের সুর, ঘুঙুরের শব্দ। ঘরে ঘরে বাইজি নাচের মহল। ওস্তাদ বাজনদারদের হাতের তালে বোল ওঠে। কলকাতার এই মেহফিলে জীবিকার সন্ধানে আওধের জেনানা মহল থেকে এসে যোগ দেন গুলাবিজান। জীবিকা আর জীবন মিলেমিশে আপন হয়ে যায় কলকাতায়। আওধ ছেড়ে তাঁর কলকাতার জীবন যাপনের দিন রাত লিপিবদ্ধ করা আছে গুলাবিজানের স্মৃতিকথা ‘দাস্তান-এ-গুলাবিজান’-এ। ইতিহাসের অন্দরমহল থেকে উঠে আসে হারিয়ে যাওয়া বাইজির জীবনচরিত। গজল, ঠুমরি ও কত্থকের সুর, তালের সঙ্গে দর্শক প্রত্যক্ষ করতে থাকেন গুলাবিজানের জীবনধারা।
সম্প্রতি কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটির অ্যাম্পি থিয়েটারে প্রদর্শিত হল সংগীত ও নৃত্য সহযোগে নাটক ‘গুলাবিজান’। ভাবনা ও নির্মাণ শুক্লা বন্দোপাধ্যায়ের। গান্ধর্বী নাট্য সংস্থার এই নাটক ঔপনিবেশিক সময়ের বাইজি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। এটা শুধু পরিবেশনা নয়। এক মানবীর প্রতি স্মৃতি তর্পণ, শ্রদ্ধাঞ্জলি।
গান, নাচের মধ্যে দিয়ে গুলাবিজানকে ফিরে দেখা। গুলাবিজানের চরিত্রে পামেলা সিং। তাঁর গলায় গজলের সুর দর্শকদের মুগ্ধ করে দেয়। কম বয়সের গুলাবিজানের চরিত্রে ও নৃত্যে ছিলেন মৌমিতা মিত্র, রমনদীপ কৌর, মঞ্জুলিকা সেন ও শুক্লা বন্দোপাধ্যায়। সারেঙ্গিতে ছিলেন মোরাদাবাদ ঘরানার ওস্তাদ কামাল আহমেদ। কিরানা ঘরানার শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী সালামত আলি খান। ইতিহাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নায়িকাদের বিচ্ছেদ ও প্রতিবাদের গল্প বলে এই নাটক। এক সময় সংগীত ও নৃত্যের এই সাম্রাজ্যের বাতাসে ভেসে বেড়াত জাফরানের সুবাস। ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া এক মানবীকে যোগ্য সম্মান প্রদান করেছেন পরিচালক।