নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম : কালীপুজোর উৎসবে এবার ঝাড়গ্রামের মাটির প্রদীপের বাজারে গুজরাতের ছোঁয়া। শহরের বাজারে গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী লাল মাটির ‘কোদিয়া’ প্রদীপ দেদার বিক্রি হচ্ছে। মেশিনের ছাঁচে তৈরি মাটির প্রদীপও নজর কাড়ছে। গুজরাতের ঐতিহ্যবাহি কোদিয়া ও জঙ্গলমহলের দেওয়ালী পুতুল প্রদীপ কিনতে ক্রেতারা বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন। গুজরাতের লাল মাটির ‘কোদিয়া’ বা ‘পানতি’ প্রদীপ ভারতের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের অন্যতম নিদর্শন। গুজরাতের থাঙ্গড়, আহমেদাবাদ, মোর্বি ও কচ্ছের প্রজাপতি সম্প্রদায়ের শিল্পীরা বংশপরম্পরায় লাল মাটির প্রদীপ তৈরি করেন। সূক্ষ্ম কারুকাজ ও মসৃণ গড়ন প্রদীপের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কচ্ছের গুন্দিয়ালির শিল্পীরা প্রদীপে লাল রং আনতে প্রাকৃতিক লাল মাটি ব্যবহার করেন। ধাপে মাটি পরিষ্কার ও পালিশ করার ফলে প্রদীপগুলি হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন। কালীপুজোর আগে জেলার প্রদীপ ব্যবসায়ীরা প্রথমবার গুজরাত থেকে আগাম অর্ডার দিয়ে এই প্রদীপ নিয়ে এসেছেন। মূলত বাক্স ও নৌকার আকৃতির প্রদীপগুলি ক্রেতাদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। এক একটি প্রদীপের দাম ১০ টাকা। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় এই প্রদীপ। তেল বা ঘি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলো জ্বলে। খড়্গপুর থেকেও মেশিনের ছাঁচে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মাটির প্রদীপ জেলার বাজারে এবার এসেছে। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ালী পুতুল, হাতি পুতুল প্রদীপও বিক্রি হচ্ছে। বাজার ৬০ থেকে ১২০ টাকা দরে এক একটি দেওয়ালী পুতুল প্রদীপ বিক্রি হচ্ছে। শহরের জুবিলি মার্কেটের প্রদীপ বিক্রেতা সোমনাথ পাল বলেন, গুজরাত থেকে প্রথমবার লাল মাটির কোদিয়া প্রদীপ নিয়ে এসেছি। খড়্গপুর থেকে মেশিনে তৈরি প্রদীপের পাশাপাশি দেওয়ালী প্রদীপও এনেছি। কোদিয়া প্রদীপ ভালো বিক্রি হচ্ছে। দেওয়ালী পুতুল প্রদীপেরও চাহিদা রয়েছে। হাতি পুতুল প্রদীপও অনেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অপর এক প্রদীপ বিক্রেতা বলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর জেলার বহু মানুষ সোমনাথ মন্দির দর্শনকরতে যাচ্ছে না। তাঁদের কাছ থেকে গুজরাতের লাল মাটির কোদিয়া প্রদীপের কথা জানতে পারি। নবরাত্রি ও দীপাবলির সময় গুজরাটের বাড়িতে বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী এই প্রদীপ জ্বালানোর রেওয়াজ রয়েছে।বিষয়টি জেনেই প্রদীপের অর্ডার দিয়েছিলাম । বাজারে ভালোই বিক্রি হচ্ছে। আদিবাসী মার্কেটের প্রদীপ বিক্রেতা শান্তনু বসু বলেন,অন্যবারের তুলনায় মাটির প্রদীপের চাহিদা এই বছর বেশ ভালো। কালী পুজোর সময় দেওয়ালী প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে।ক্রেতারা এসে দেওয়ালী পুতুল প্রদীপ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শহরের ঘোড়াধরা এলাকার বাসিন্দা সন্তোষ মাহাত বলেন, গুজরাতের লাল মাটির কোদিয়া প্রদীপের কথা জানতাম না। এবার দেওয়ালী পুতুল প্রদীপের সঙ্গে কোদিয়া প্রদীপও বেশ কয়েকটি কিনেছি।ঝাড়গ্রামের মাটির প্রদীপের বাজারে এবার বৈচিত্র্যের সমাহার। দেশীয় ঐতিহ্যের প্রদীপের সঙ্গে গুজরাতের কোদিয়া প্রদীপের মেলবন্ধনে জমে উঠেছে প্রদীপের বেচাকেনা।



