মুম্বই: অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। টানা ছ’টি ম্যাচে জয়। ক্রিকেটারদের মনোবল তুঙ্গে। আর দু’পয়েন্ট ঝুলিতে পুরে নিতে পারলেই প্লে-অফের টিকিট কনফার্ম। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে গুজরাত টাইটান্সের মুখোমুখি হচ্ছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। দুর্দান্ত ফর্মে শুভমান গিলরা। ১০ ম্যাচে গুজরাতের ঝুলিতে ১৪ পয়েন্ট। সেখানে একটা ম্যাচ বেশি খেলে মুম্বইও সমান পয়েন্ট নিয়ে আপাতত তৃতীয় স্থানে। ফলে একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা থাকবে ক্রিকেটারদের মধ্যে। উপভোগ্য লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট দুনিয়া।
পঁচিশের আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া হার্দিকদের নিয়ে একটা সময় কার্যত আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন সমর্থকরা। মূলত রোহিত শর্মা, রিকেলটনদের অফ ফর্মই ভোগাচ্ছিল দলকে। সেই সমস্যা উধাও। ছন্দে হিটম্যান। বাঁ হাতি রিকেলটনও শুরুতে ঝড় তুলছেন। তার উপর ওয়াংখেড়ের বাউন্ডারি তুলনায় ছোট। চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে রানের পাহাড় খাড়া করার দুর্দান্ত সুযোগ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ও খেতাব জয়ের প্রবল দাবিদার মনে করা হচ্ছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বইকে। সব বিভাগই ছন্দে। উইল জ্যাকস, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, তিলক ভার্মা— প্রত্যেকেই দলকে জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। শুরুটা খারাপ হলেও তাঁরা সামলে দিচ্ছেন পরিস্থিতি। পাশাপাশি নমন ধীর, করবিন বসকে দেওয়া হচ্ছে সুযোগ। মুম্বইয়ের পেস আক্রমণও শক্তিশালী হয়েছে বুমরাহর কামব্যাকে। পাশাপাশি রয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট ও দীপক চাহার। নতুন বলে তাঁরা পরীক্ষায় ফেলবেন গুজরাতের টপ অর্ডার ব্যাটারদের। স্পিন বোলিংয়ে করণ শর্মাকে খেলানো হচ্ছে। প্রয়োজনে ফেরানো হতে পারে স্যান্টনারকেও।
অনেকে বলেন, গুজরাত মাথাভারী দল। মূলত তিন ব্যাটসম্যান শুভমান গিল, সাই সুদর্শন ও যশ বাটলারের উপরই নির্ভর করে দলের ভাগ্য। এখনও পর্যন্ত তিনজনেই সেরা ফর্ম মেলে ধরেছেন। আসল পরীক্ষা কিন্তু মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে। বুমরাহ, বোল্টদের সামলে গিল, সুদর্শনরা বড় পার্টনারশিপ গড়তে না পারলে চাপে পড়বেন বাটলার। সেক্ষেত্রে ওয়াশিংটন, তেওয়াটিয়া, শাহরুখ খানদের পক্ষে কাজটা সহজ হবে না। তবে গুজরাতের বোলিংয়ে যথেষ্ট ভারসাম্য রয়েছে। নতুন বলে সিরাজ, ইশান্ত শর্মা শুরু করবেন। ফর্মে থাকা প্রসিদ্ধকে হয়তো পাওয়ার প্লে’তে ব্যবহার করা হবে। দুই স্পিনার রশিদ খান ও সাই কিশোরের ভূমিকাও হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।