নয়াদিল্লি: সাই সুদর্শনের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ম্লান লোকেশ রাহুলের শতরান। রবিবার ফিরোজ শাহ কোটলায় সুদর্শন ও অধিনায়ক শুভমান গিলের দুরন্ত ওপেনিংয়ে গুজরাত টাইটান্স ১০ উইকেটে হারাল দিল্লি ক্যাপিটালসকে। ৬ বল বাকি থাকতে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছয় গুজরাত (২০৫-০)। এই জয়ের সুবাদে প্লে-অফে উঠলেন গিলরা। শুধু গুজরাত নয়, একইসঙ্গে প্লে-অফ নিশ্চিত হল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং পাঞ্জাব কিংসেরও।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস তিন উইকেটে তোলে ১৯৯। ৬৫ বলে ১১২ রানে অপরাজিত থাকেন রাহুল। ক্রিকেটমহলে বলা হয়, তিনি যে কত বড় ক্রিকেটার, তার আন্দাজ নেই খোদ লোকেশ রাহুলেরই। দুরন্ত শতরানে ক্রিকেটপ্রেমীরা অবশ্য ঝলক পেলেন তাঁর ব্যাটিং-দক্ষতার। শুরুটা যদিও ধীরেসুস্থে করেছিলেন। প্রথম ২০ বলে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২৫। এরপর গতি বাড়ান। আক্রমণের জন্য কাগিসো রাবাডাকে বেছে নেন তিনি। ষষ্ঠ ওভারে প্রোটিয়া পেসারের থেকে তোলেন ১৭ রান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাও ছাড় পাননি। ৬৫ বলে ১৭২.৩০ স্ট্রাইক রেটে ১৪টা বাউন্ডারি ও চারটি ছক্কা মারেন তিনি। এবারের আইপিএলে এত বল কেউ খেলেননি। টি-২০ ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ৮০০০ রানও পূর্ণ হল রাহুলের। তিনি নেন মাত্র ২২৪ ইনিংস। তাঁর চেয়ে কম ইনিংস নিয়েছেন মাত্র দু’জন— ক্রিস গেইল (২১৩) ও বাবর আজম (২১৮)। তাৎপর্যের হল, এবারের ক্রোড়পতি লিগ প্রথম ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরান করলেন রাহুল। আইপিএলে এটা তাঁর পঞ্চম শতরান। বিরাট কোহলি (৮), জস বাটলার (৭), ক্রিস গেইলের (৬) পরই তিনি। সার্বিকভাবে টি-২০ ক্রিকেটে সপ্তম সেঞ্চুরি হল তাঁর। ভারতীয়দের মধ্যে এগিয়ে মাত্র তিনজন— কোহলি (৯), রোহিত শর্মা (৮) ও অভিষেক শর্মা (৭)।রাহুল ছাড়া দিল্লির ব্যাটারদের মধ্যে রান পান অভিষেক পোড়েল (৩০), অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল (২৫) ও ট্রিস্টান স্টাবস (অপরাজিত ২১)। ফাফ ডু’প্লেসি (৫) যদিও ব্যর্থ। দশটা বলও খেলেন তিনি। গুজরাতের বোলারদের মধ্যে আর্শাদ খান (১-৭), প্রসিদ্ধ (১-৪০), সাই কিশোর (১-৪৭) উইকেট পান।
২০০ রানের টার্গেট তাড়া করে গুজরাত অবশ্য কখনই চাপে পড়েনি। চলতি আসরে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন গুজরাতের দুই ওপেনার। এই ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতাই দেখালেন দু’জনে। ৬১ বলে সুদর্শন অপরাজিত থাকলেন ১০৮ রানে। ১২টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। চলতি আসরে ৬১৭ রান হয়ে গেল তাঁর। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন গিল (৬০১)। তিনি অপরাজিত থাকলেন ৫৩ বলে ৯৩ করে। গিলের ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ৩টি চার। সুদর্শন ও গিলের ওপেনিংয়ে এই আসরে এখনও পর্যন্ত উঠেছে ৮৩৯ রান। দু’জনের কেউই বেশি ঝুঁকি নেন না। খেলেন ব্যাকরণ মেনেই। রানের গতি বজায় রাখতে যদিও অসুবিধা হয় না। গুজরাতের সাফল্যের প্রধান কারণ এই দুই ওপেনারের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতাই। এই প্রথম আইপিএলে ১০ উইকেটে জয়ী হল গুজরাত। ম্যাচের সেরা হন ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ সুদর্শনই।
- বৃথা গেল রাহুলের শতরান