Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দুরমুশ গুজরাত, ফাইনালেও ঝলসে উঠল কোহলির ব্যাট

কৈলাস খেরের শিবস্তোত্রর পর বিরাট কোহলির ব্যাটে নটরাজের তান্ডব! ওস্তাদের মার যে শেষ রাতে, মোতেরায় সেটাই ‘প্রিন্স’ শুভমান গিলকে বুঝিয়ে দিলেন তিনি।

দুরমুশ গুজরাত, ফাইনালেও ঝলসে উঠল কোহলির ব্যাট
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

আমেদাবাদ:  কৈলাস খেরের শিবস্তোত্রর পর বিরাট কোহলির ব্যাটে নটরাজের তান্ডব! ওস্তাদের মার যে শেষ রাতে, মোতেরায় সেটাই ‘প্রিন্স’ শুভমান গিলকে বুঝিয়ে দিলেন তিনি। ‘কিং’ কোহলির দাপটে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ১৩ ওভারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সংগ্রহ চার উইকেটে ১২৬। গুজরাত টাইটান্সকে দুরমুশ করে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল খেতাব জয়ের পথে রজত পাটীদারের দল। ৪২ বলে চাই আর ৩০ রান। ক্রিজে চেজমাস্টার বিরাটের (৫৬) সঙ্গী টিম ডেভিড (১৯)। 

Advertisement

প্রথম ১৭বারে একবারও আসেনি খেতাব। গতবার অধরা মাধুরি প্রথম ধরা দেয় আরসিবি শিবিরে। এবার বিরাটদের সামনে টানা দ্বিতীয়বার জেতার হাতছানি। তবে চলতি আসরেই মোতেরায় ১৫৫ রানে বেঙ্গালুরুকে আটকে রেখেছিল গুজরাত। সেই পিচেই ফাইনাল হওয়ায় আশার জাল বুনছিল হোমটিম। তাছাড়া আইপিএল ফাইনালে অতীতে চারবার ১৬০’র চেয়ে কম রান তুলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু বেঙ্গালুরুর শুরুটাই হয় মারমার কাটকাট মেজাজে। ঝড় তোলেন ওপেনার বেঙ্কটেশ আয়ার। মাত্র ১৬ বলে করেন ৩২। মারেন চারটি চার ও দু’টি ছক্কা। কোহলি অবশ্য  বেছে নেন কাগিসো রাবাডাকে। চতুর্থ ওভারে প্রোটিয়া পেসারকে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ষষ্ঠ ওভারে পুলে সীমানার ওপারে ছিটকে দেন ফের রাবাডাকে। বুঝিয়ে দেন, অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়লেও তিনি থামবেন না। তবে নবম ওভারে রশিদ খানের জোড়া ধাক্কায় লড়াইয়ে ফেরে গুজরাত। রজত পাটীদারের (১৫) পর ক্রুণাল পান্ডিয়াকেও (১) ফেরান আফগান লেগস্পিনার।  
টসের পরই রবিচন্দ্রন অশ্বিন পোস্ট করেন, খেতাবরক্ষার পথে ৩০ শতাংশ এগিয়ে গেল বেঙ্গালুরু। প্রথম ওভারে জেকব ডাফির ক্রমাগত ওয়াইড সহ ১৩ রান অবশ্য অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছিল। শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন, দুই ওপেনারকেই দেখাচ্ছিল ফর্মে। কিন্তু তৃতীয় ওভারে জস হ্যাজলউডের বাড়তি বাউন্স সামলাতে পারলেন না টাইটান্স ক্যাপ্টেন। শর্ট-আর্ম পুল মারতে গিয়ে ক্যাচ তুললেন তিনি (১০)। অনেকটা দৌড়ে তা তালুবন্দি করলেন রজত পাটীদার। শুক্রবারই সেঞ্চুরি করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা গিলের বিদায় নিঃসন্দেহে হোমটিমের কাছে বড় ধাক্কা। বিরাটের শরীরী ভাষায় তখনই আগ্রাসনের বার্তা।
পরের ওভারে ফের আঘাত। এবার ভুবনেশ্বর কুমারের বাউন্সারে ক্যাচ তুললেন সুদর্শন (১২)। ২৬ রানে ফেরেন দুই মহারথী। পাওয়ার প্লে’র শেষে স্কোরবোর্ডে কোনোরকমে ওঠে ৪৫। এরপর শুধুই যাওয়া-আসার পালা। ভুবির থেকে জস বাটলারকে আড়াল রাখতে তিনে প্রমোশন পাওয়া নিশান্ত সিন্ধু (২০) বেশিক্ষণ থাকেননি। রসিখ সালামের শিকার তিনি। চারে নামা বাটলার (১৯) ছিলেন না ছন্দে। ক্রুণাল পান্ডিয়াকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হন তিনি। ছয় নম্বরে আর্শাদ খান, চমক দিতে চেয়েছিল গুজরাত। তবে তিনি (১৬) ছয় বলের বেশি টেকেননি। হ্যাজলউডের বলে ক্যাচ দেন বাঁ-হাতি। রাহুল তেওয়াটিয়াকে (৭) ফেরান রসিখ। ১১৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ইনিংসকে টানেন ওয়াশিংটন সুন্দর। থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে জীবন ফিরে পাওয়া তিনি অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে। ৩৭ বলের ইনিংস সাজানো পাঁচটি চারে। সুন্দরের লড়াইয়েই হোমটিম আট উইকেটে থামে ১৫৫ রানে। শর্টপিচ ডেলিভারের মাস্টারপ্ল্যানই হয়ে ওঠে ঘাতক। বেঙ্গালুরুর সফলতম বোলার রসিখ (৩-২৭)। ভুবি (২-২৯), হ্যাজলউড (২-৩৭), ক্রুণালও (১-২৩) নজর কাড়েন। 
সবরমতীর পাড়ে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল পার্পল ক্যাপের লড়াইও। প্রথমার্ধে দুই উইকেট নেন ভুবি। তাঁর শিকারসংখ্যা দাঁড়ায় কাগিসো রাবাডার মতোই ২৮। তবে উন্নততর ইকনমি রেটের জন্য তাঁর মাথায় ওঠে বেগুনি টুপি। কিন্তু পাদিক্কালকে ফিরিয়ে তা ছিনিয়ে নেন রাবাডা। টাইটান্সের দুই ওপেনারের জলদি বিদায় অরেঞ্জ ক্যাপের রাজমুকুট বৈভব সূর্যবংশীর (৭৭৬) মাথায় বসায় শুরুতেই। গিল থামলেন ৭৩২ রানে। সুদর্শন ৭২২। বিরাট রাজার মঞ্চে যা আগামীর পদধ্বনি!

সম্পর্কিত সংবাদ