Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হোটেল, বহুতলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে নির্দেশিকা

তারাপীঠের হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে ৯জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অবশেষে টনক নড়ল বীরভূম জেলা প্রশাসনের।

হোটেল, বহুতলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে নির্দেশিকা
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তারাপীঠের হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে ৯জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অবশেষে টনক নড়ল বীরভূম জেলা প্রশাসনের। হোটেল-রিসর্টগুলিতে তড়িঘড়ি ফায়ার অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিপদ কি কেবল তারাপীঠেই সীমাবদ্ধ? সিউড়ি, সাঁইথিয়া, দুবরাজপুর থেকে শুরু করে পর্যটন শহর বোলপুর, গোটা জেলাই তো কার্যত জতুগৃহ। অভিযোগ, গত দেড় দশকে পূর্বতন শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা শপিং মল, নার্সিংহোম, ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল রিসর্টগুলির সিংহভাগেরই দমকল বা পরিবেশ দপ্তরের কোনও বৈধ ছাড়পত্র নেই।

Advertisement

জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, সমস্ত পুরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হোটেল, রিসর্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য নির্মাণগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে। অসঙ্গতি ধরা পড়লেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
জেলার বিভিন্ন শপিং মল থেকে শুরু করে বহু বেসরকারি নার্সিংহোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবস্থা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। সেখানে না আছে রোগীদের জরুরি পরিস্থিতিতে বেরনোর পথ, না আছে আগুন নেভানোর ন্যূনতম পরিকাঠামো। শপিং মলগুলির বেসমেন্টে পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় গাড়িগুলি রাস্তার উপর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী। সেইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের একাংশ ফুটপাত থেকে শুরু করে রাস্তার বড় অংশ দখল করে নেওয়ায় জেলার সমস্ত শহরের রাস্তা ঘিঞ্জি হয়ে গিয়েছে। এরমাঝে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দমকলের ইঞ্জিন বা অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার পথও অবরুদ্ধ হয়ে থাকে।
জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র বোলপুর-শান্তিনিকেতন আজ মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্য। কবিগুরুর ‘প্রাণের আরাম’ শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি থেকে শুরু করে কোপাইয়ের তীর, সর্বত্রই দেদার হোটেল ও রিসর্ট গড়ে উঠছে। সেগুলির অধিকাংশ নির্মাণই অবৈধ এবং বেআইনি বলে অভিযোগ। পরিবেশ থেকে শুরু করে দমকল দপ্তরের ছাড়পত্র নেই। পাশাপাশি, সবুজ ধ্বংস করে গজিয়ে ওঠা এই কংক্রিটের জঙ্গল শান্তিনিকেতনের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূল আমলে জেলার সুবিশাল অবৈধ সাম্রাজ্যের ‘সুতো’ বাঁধা ছিল দাপুটে ‘কেস্টবিষ্টু’দের আঙুলেই। মোটা টাকার বিনিময়ে তাঁদের সন্তুষ্ট করেই প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে মাথা তুলেছে এই অনিয়মের পাহাড়। তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। জেলার এক পদস্থ আমলা অবশ্য আক্ষেপের সুরে বলেন, আগের সরকারের আমলে প্রশাসনের কি নিজের মতো কিছু করার উপায় ছিল? প্রশাসন চাইলেও কি ব্যবস্থা নিতে পারত?
অনেকের প্রশ্ন, বর্তমান প্রশাসনের এই আশ্বাসে কতটা ভরসা রাখা যায়? রাজ্যজুড়ে যখনই বড়োসড়ো কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটে, ঠিক এভাবেই কয়েকদিন লোকদেখানো তৎপরতা শুরু হয়। ধরপাকড়, অডিট, আর নোটিস পাঠানোর পর্ব চলে। তারপর কয়েকদিন পেরোলেই সেই চেনা ছবি। ফের শুরু হয় নিয়ম ভাঙার খেলা। তারাপীঠে ৯জনের তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর শুরু হওয়া এই তৎপরতা কি সত্যিই বীরভূমকে জতুগৃহের হাত থেকে বাঁচাবে, নাকি বরাবরের মতো কয়েকদিন পরই আবার সব ধামাচাপা পড়ে যাবে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ