সুব্রত ধর, কার্শিয়াং: জিটিএর ঘোটালা (দুর্নীতি) নিয়ে হবে তদন্ত। কেউ ছাড় পাবে না। রাজ্যে পালাবদলের মাসখানেক পর মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিওট গ্রাউন্ডে প্রথম জনসভায় এই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে তিনি কাটমানি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়েছেন। এদিন এর জবাব না দিলেও বিকেলে বৈঠকে বসে জিটিএ-র চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপার দল বিজিপিএম। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে পাহাড়ের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
অনীতের দল বিজিপিএম শাসিত জিটিএর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ অনেকদিনের। রাজ্যে পালাবদলের পরই এই ব্যাপারে সরব হন বিজেপির শরিক গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও এই ইস্যুতে গলা ফাটিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, পানীয় জল, রাস্তা, পরিকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। এদিন বিজেপির পার্বত্য সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে সুর সপ্তমে তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভা থেকে জনতার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, জিটিএর ঘোটালা নিয়ে তদন্ত হবে? সমস্বরে জনতার উত্তর—‘হ্যাঁ’। যারা সরকারের টাকা লুট করেছে, তাদের জেলে যাওয়া উচিত। জনতার জবাব—‘হ্যাঁ’। এখানেই মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, আমরা কাউকে ছাড়ব না। আমি খাব না, খেতেও দেব না। যারা সরকারি অর্থ লুট করেছে, তাদের জেলে পাঠাব।
শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও জিটিএর বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও জিটিএ ঘোটালা করেছে। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষিত যুবকদের কাজ দেব। জিটিএর মতো নয়। একই সঙ্গে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, কাটমানি আদায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বিগত সরকার ছিল ভ্রষ্টাচারী ও পরিবারবাদী। ওরা প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনার কোনো কাজই করেনি, লোটার কাজ করেছে। তাই সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, কাটমানি আদায় বরদাস্ত করা হবে না। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিন সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনাও করেন শুভেন্দু। তিনি নিজেকে পাহাড়বাসীর কাছে ভাই হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করেছিল পূর্বতন সরকার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পর্যটক হিসাবে পাহাড়ে ভ্রমণ করতে আসতেন। শুভেন্দু এখানে ঘুরতে আসবে না। পাহাড়বাসীর জন্য কাজ করতে আসব। যা বলব তা করব। সুতরাং, যা বলব ভেবেই বলব। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বিগত সরকারের জমানায় বহু গোর্খা ভাইবোনকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। আমরা ওই সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে তাঁদের রেহাই দেব।
এদিনের সভায় ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং সাংসদ রাজু বিস্তা।