নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাগুজে কোম্পানি খুলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নামে জাল ইনভয়েস তৈরি করে বিক্রির চক্রের খোঁজ পেল কেন্দ্রীয় সংস্থা। হাওড়ার মল্লিক ফটক থেকে চক্রের কিংপিন সোনু ভগতকে বুধবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করল ডিরেক্টর জেনারেল অফ গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স ইন্টেলিজেন্স (ডিজিজিআই)। এই জাল নথি জমা করে সরকারের কাছ থেকে ১৫০ কোটি টাকার বেশি ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (আইটিসি) তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এরফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। কোন কোন ব্যবসায়ীকে আইটিসি পেতে সোনু সাহায্য করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
ইনভয়েস জমা করে যে সমস্ত কোম্পানি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আইটিসি আদায় করেছে, তাদের নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেছে ডিজিজিআই। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির আদৌ অস্তিত্ব আছে কি না, তা সরজমিনে গিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছেন অফিসাররা। সেখান থেকে জানা যায়, মধ্য কলকাতা ও হাওড়ার দুটি ঠিকানায় একাধিক অফিস খোলা হয়েছে বিগত তিন বছরে। ডিজিজিআইয়ের অফিসাররা তদন্তে নেমে দেখেন, এই কোম্পানিগুলি বাস্তবে কোনও জিনিস তৈরি বা বিক্রি করে না। বিপুল পরিমাণ লেনদেনের সবটাই কাগজে কলমে। ভুয়ো লেনদেনের হিসেব দেখিয়ে ৫২ কোটি টাকার আইটিসি তুলে নেওয়ার তথ্য প্রথমে পান তদন্তকারীরা। তদন্ত আরও এগনোর পর সেই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫০ কোটিরও বেশি। জানা যায়, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আধার, প্যান সহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করে, তাঁদের কোম্পানির ডিরেক্টর সাজিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলেন অভিযুক্ত সোনু। কাগুজে কোম্পানিগুলির মধ্যে বেশ কিছু ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট রয়েছে। আবার কিছু ট্রেডিং কোম্পানি রয়েছে। কাগজে কলমে কেনাবেচা দেখিয়ে ভুয়ো ইনভয়েস তৈরি হয়েছে। ঘটনায় সঞ্জয় গুপ্তা নামে একজনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে ডিজিজিআই। তাকে জেরা করে জানা যায়, চক্রের কিং পিন হলো সোনু ভগত। হাওড়ার বাসিন্দা সোনু কাগুজে কোম্পানি খোলা থেকে শুরু করে ইনভয়েস তৈরি সবটাই করতেন। এরপরই বুধবার রাতে হাওড়ার মল্লিকফটকের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, কাগুজে লেনদেন দেখিয়ে সোনু জাল ইনভয়েস তৈরি করতেন। সেগুলি কলকাতা সহ রাজ্য ও দেশের অন্য প্রান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো। বিনিময়ে জুটত মোটা অর্থ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। সোনুর আইনজীবী মহম্মদ সাজিদ বলেন সঞ্জয় গুপ্তার বয়ানের ভিত্তিতে তাঁর মক্কেল গ্রেপ্তার হয়েছেন। সোনু নথি জালিয়াতিতে জড়িত, তার প্রমাণ এখনও নেই।