Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মধ্যবিত্তের নিত্যপণ্যে কমছে জিএসটির বোঝা

কাউন্সিলের বৈঠকে আগেই স্থির হয়েছিল যে, ২০১৭ সাল থেকে চলা জিএসটি হারের ধাপগুলি ঢেলে সাজা হবে। একে বলা হচ্ছে জিএসটির বাস্তবসম্মত হার নির্ধারণ।

মধ্যবিত্তের নিত্যপণ্যে কমছে জিএসটির বোঝা
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কাউন্সিলের বৈঠকে আগেই স্থির হয়েছিল যে, ২০১৭ সাল থেকে চলা জিএসটি হারের ধাপগুলি ঢেলে সাজা হবে। একে বলা হচ্ছে জিএসটির বাস্তবসম্মত হার নির্ধারণ। সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে শীঘ্রই। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই প্রক্রিয়ায় সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হবে মধ্যবিত্তের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের জিএসটি হারের উপর। সিংহভাগ ক্ষেত্রে হার বদলেই সংসারে সুরাহা হবে। অর্থাৎ জিএসটি হার কমানো হবে। সুতরাং দামও কমবে। জিএসটির চারটি ধাপকে কমিয়ে দু’টি অথবা তিনটি ধাপে নিয়ে আসার প্রস্তাব নিয়েই আলোচনা চলছে। সেক্ষেত্রে জিএসটির ১২ শতাংশের ধাপটাই সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হবে। ওই স্ল্যাবে থাকা পণ্যগুলির বেশিরভাগই নিয়ে আসা হবে ৫ শতাংশে। আপাতত যে তালিকা তৈরি হচ্ছে, তার প্রায় সবই রয়েছে ১২ শতাংশে। এর মধ্যে রয়েছে টুথপেস্ট, বাসনপত্র, প্রেশার কুকার, ইলেকট্রিক ইস্ত্রি, বাইসাইকেল গিজার, ওয়াশিং মেশিন, খাতা ইত্যাদি। তবে পণ্যের দামের উপর নির্ভর করবে জিএসটি হারের রদবদল। রেডিমেড গারমেন্টের মতো সামগ্রীর ক্ষেত্রে দাম হাজার টাকার বেশি হলে কমবে জিএসটি। স্টেশনারি কিছু পণ্যেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। যেসব জুতোর দাম ৫০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে, সেগুলির জিএসটি ১২ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশের ধাপে আনা হবে। কমবে ভ্যাকসিন এবং কৃষিক্ষেত্রে জিএসটিও।

Advertisement

তবে আশঙ্কার আবহও রয়েছে জিএসটি কাউন্সিলে। কারণ, বহু পণ্যের জিএসটি এক ধাক্কায় কমে গেলে কেন্দ্র এবং রাজ্য, উভয়ের আয় অনেকটা কমে যাবে। যে পণ্যগুলির তালিকা প্রাথমিকভাবে করা হচ্ছে, সেগুলির জিএসটি হার কমলে সার্বিকভাবে ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা। তবে একটাই আশা—দাম কমলে বিক্রি বাড়বে। সুতরাং পণ্যের দাম কমে গেলে যদি বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায়, তাহলে লোকসান ঠেকানো সম্ভব হবে। অবশ্য এ নিয়ে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সব রাজ্য রাজি হচ্ছে না। কারণ, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে রাজ্যগুলি আর জিএসটি ক্ষতিপূরণের সেস পাবে না। সুতরাং আর্থিক লোকসানের সম্ভাবনা শিয়রে। তার মধ্যে বেশ কিছু পণ্যের জিএসটি কমলে আর্থিক সঙ্কট বাড়বে। এসব সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই জিএসটি কাউন্সিলে সুপারিশ জমা দেবে কাউন্সিলের মন্ত্রিগোষ্ঠী। 
জিএসটি ব্যবস্থা ২০১৭ সালে চালু হওয়ার আগে থেকেই কংগ্রেসের আপত্তি ছিল। আপত্তির কারণ, চারটি ধাপে জিএসটির কাঠামো নির্ধারণ। সহজ সরলভাবে একটি অথবা দু’টি ধাপের মধ্যেই করকাঠামোকে রাখা হোক—এই দাবিতে সরব হয় কংগ্রেস। প্রাথমিকভাবে কর্ণপাত না করলেও পরবর্তী সময়ে, বিশেষত ২০২২ সালে জিএসটি যুগের পাঁচ বছর পূর্তির পর কেন্দ্রও উপলব্ধি করে, জিএসটি ব্যবস্থা অতি জটিলতায় আক্রান্ত। তারপরই ধীরে ধীরে কাউন্সিলে আলোচনা শুরু হয় যে, জিএসটি কাঠামোয় বদল আনতে হবে। কমাতে হবে করের ধাপ। সেই ভাবনারই বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এ মাসের শেষেই ৫৬তম জিএসটি কাউন্সিল বৈঠকে জিএসটি করকাঠামোয় রদবদলের সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। অর্থাৎ, চড়া মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের বাজারে মধ্যবিত্ত খানিকটা আশায় থাকতেই পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ