Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহুয়ার মন্তব্যে বাড়ছে ক্ষোভ, দ্বিধাবিভক্ত নদীয়ার তৃণমূল

মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্যে নদীয়ার তৃণমূল দ্বিধাবিভক্ত। কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কী ঘটছে? বিস্তারিত পড়ুন।

মহুয়ার মন্তব্যে বাড়ছে ক্ষোভ, দ্বিধাবিভক্ত নদীয়ার তৃণমূল
  • ২৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরিয়েছে দেড় মাস হতে চলল। তারপরেও জেলায় সেভাবে দেখা যায়নি তৃণমূলের নেতৃত্বকে। তৃণমূল গৃহদাহ শুরুর আগে জেলায় এসে বিভিন্ন ব্লকে হাতেগোনা কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। তারপর কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি পদে প্রত্যাবর্তন করলেও জেলায় আসেননি তিনি। দেখা যাচ্ছে না তৃণমূলের বিধায়ক ও নেতাদের। কর্মীদের কথায়, ‘আমাদের একা রেখে কলকাতাতেই টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা। যার ফলে নীচুতলায় বিশ্বাসভঙ্গ ঘটছে।’ এরইমধ্যে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একের পর এক বক্তব্যে দ্বিধাবিভক্ত তৃণমূল শিবির। কখনও জেলা পরিষদের অনাস্থা আনা নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। আবার কখনও তাঁর ঘনিষ্ঠ বিধায়ক জেবের শেখ ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানোয় তাঁকেও আক্রমণ করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতেও দেখা গিয়েছে মহুয়া মৈত্রকে। নদীয়া জেলায় সাংগঠনিকভাবে জমি হারানোর আশঙ্কা থেকেই কি তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। 

Advertisement

কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব থাকার সময়েও প্রতিটি বিধানসভায় মহুয়া ও বিধায়ক শিবিরে আড়াআড়ি বিভক্ত ছিল। বিধানসভা নির্বাচনেও তা বোঝা গিয়েছিল। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর নদীয়া জেলা পরিষদের সাংসদ ঘনিষ্ঠ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা নিয়ে মুখ খোলা শুরু করেন মহুয়া মৈত্র। বিদ্রোহী শিবিরের তৃণমূল সদস্যদের ‘গদ্দার’ তকমা দিয়েছেন তিনি। দল পরিবর্তন না করা তৃণমূলের সদস্যদের নাম নিয়েই কটাক্ষ করেছেন মহুয়া মৈত্র। যার ফলে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে, সভাধিপতিকে বাঁচাতে এতো সক্রিয় কেন সাংসদ? যা অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। করিমপুরের এক তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, ‘করিমপুরের ওঁর দুজন ব্লক সভাপতি পদত্যাগ করেছেন। এবার জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করছেন। অতীতে প্রতি বিধানসভায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল সাংসদের হাত ধরেই। ওঁকে কি দল থেকে বলেছে এই ধরনের মন্তব্য করতে? আমরা সময়মতো জবাব দেব।’
নদীয়া জেলায় মহুয়া ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চাপড়ার বিধায়ক জেবের শেখ। তাকে নিয়ে মহুয়াদেবী বলেন, ‘রুকবানুরকে সরিয়ে চাপড়ায় জেবের শেখকে টিকিট দেওয়া হল। আজকে জেবের শেখ কী করে ঋতব্রতদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে? কর্মীরা কোনোদিন বলতে পারে না যে, বাঁচানোর জন্য বিজেপি করুক।’ যদিও এই নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি জেবের শেখ‌। যা নিয়ে একসময়ের রুকবানুরপন্থী প্রাক্তন তৃণমূল কর্মীরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লিখছেন, ‘চাপড়া তথা পুরো নদীয়ার রাজনীতির নোংরামো তো সব থেকে বেশি করেছেন আপনি। ন্যূনতম লজ্জাবোধ থাকলে এসব কথা বলতেন না আপনি।’ রাজনৈতিক মহলের দাবি, তৃণমূলের রাজ্যস্তরের গৃহদাহের আঁচ মহুয়া মৈত্রের হাত ধরেই জেলাস্তরে এসে পৌঁছেছে।‎
অন্যদিকে কয়েক বছর আগে জেলা সভাধিপতির বাড়িতে ধৃত জঙ্গি হ্যারেজের কাজ করার বিষয়টি সামনে এসেছিল। ধৃতের বাড়ির লোক তাকে জানিয়েছিল যে, সভাধিপতির বাড়িতেই নাকি গোরুর বিচলি কাটার কাজ করত। বুধবার এই নিয়ে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির এই নিয়ে কেস করবই। আমরা এর তদন্ত চাইব।’  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ