Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্রামীণ হুগলিজুড়ে দেদার নয়া নির্মাণ, নেই নজরদারি, জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই উঠছে আবাসন থেকে বাড়ি

গ্রামীণ হুগলিজুড়ে দেদার নয়া নির্মাণ, নেই নজরদারি, জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই উঠছে আবাসন থেকে বাড়ি
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির গ্রামীণ এলাকায় একের পর এক আবাসন মাথা তুলছে। তৈরি হচ্ছে অনেক নতুন ঘরবাড়িও। বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে গুচ্ছ গুচ্ছ নতুন নির্মাণ হলেও বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের জন্য জেলা পরিষদে আবেদন গুটিকয়েক। অর্থাৎ কোনও ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই হয়ে চলেছে এসব নির্মাণ। অভিযোগ, জেলা পরিষদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিচ্ছেন নির্মাণকারীরা। এর ফলে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, পাশাপাশি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এলাকায়। প্রশাসনিক কোনও নজরদারি না থাকায় মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নও বড় হয়ে উঠছে। নাগরিক মহলের পাশাপাশি ক্ষোভের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে জেলা পরিষদের অন্দরেও। অনেকেরই দাবি, নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন মানার বিষয়টি গ্রামীণ হুগলিতে বিশেষ কার্যকর হচ্ছে না।
Advertisement
জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, ‘যাঁরা আমাদের কাছে আবেদন করছেন, পর্যালোচনা করে তা অনুমোদন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশোধনী দিতে বলা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়াও হচ্ছে না। কিন্তু নজরদারি চালিয়ে অনুমোদন নিতে বাধ্য করার মতো পদক্ষেপ আমরা করিনি। এ ব্যাপারে আমরা জেলা পরিষদে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ করব।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিরা সহজেই জেলা পরিষদের তরফে নজরদারির কাজটি করতে পারেন। কিন্তু পরিষদ কর্তাদের পরিকল্পনার অভাবে সেই সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। গ্রামীণ হুগলিতে বহু আবাসন ও বাড়ি তৈরি হচ্ছে। অথচ জেলা পরিষদের কাছে অনুমোদন কার্যত নেওয়াই হচ্ছে না। ১০০টি বাড়ি ও আবাসন হলে দু’টির ক্ষেত্রে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের আবেদন জমা পড়ছে। ভবিষ্যতে আবাসনগুলি হেলে পড়া বা ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলে জেলা পরিষদেরই মুখ পুড়বে।’ এক কর্মাধ্যক্ষ বলেন, ‘পুরসভাগুলির মতো বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা জেলা পরিষদের নেই। সেই কারণেই হয়তো সভাধিপতি উদ্যোগ নিতে পারছেন না। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আছে। কোনও নির্মাণকাজকে অবৈধ ঘোষণা করা গেলেই এই প্রবণতায় কিছুটা রাশ পড়বে।’
ব্যাঙের ছাতার মতো বহুতল আবাসন নির্মাণের দৃশ্য জেলার শহরাঞ্চলে নতুন কিছু নয়। পুরসভা লাগোয়া গ্রামীণ এলাকায়ও সেই প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকায় এমন পরিস্থিতি কয়েক বছর আগেও ছিল না। সেই সূত্রেই গ্রামীণ এলাকায় নির্মাণের উপর নজরদারি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মতো দাবিগুলি জোরালো হচ্ছে। জেলা পরিষদ সব জেনেও কার্যত ঠুঁটো হয়ে বসে আছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনের ঘরে-বাইরে ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ