নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাজি কারখানায় অহরহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি মোকাবিলায় পূর্বতন সরকার গ্রিনবাজি হাব তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া ব্লকের রাতুলিয়ায় ছ’একর জায়গায় উপর গ্রিন বাজি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়তে ভোটের আগে টেন্ডারও ডেকেছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। এজন্য আড়াই কোটি টাকার প্রশাসনিক অনুমোদনও মিলেছিল। তারপর রাজ্যে পালাবদল হয়। সেই স্কিমের বাস্তবায়ন নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। যদিও জমি সমস্যায় হস্তক্ষেপ করে সেই ধোঁয়াশা দূর করেছে রাজ্য। বর্তমান সরকারও এই স্কিম বাস্তবায়ন করার পথে। ভূমিদপ্তরের জমি দ্রুত ইন্টার ডিপার্টমেন্টাল ট্রান্সফার করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরকে দিতে বলা হয়েছে। ২৭জুলাই এই সংক্রান্ত চিঠি নবান্ন থেকে জেলাশাসকের অফিসে এসে পৌঁছেছে। তারপরই তৎপরতা শুরু হয়েছে।
গ্রিন বাজি হাব নিয়ে জমি সমস্যা মিটলেও এই মুহূর্তে নতুন সমস্যা শুরু হয়েছে। এই স্কিমের জন্য গোড়া থেকেই সারাবাংলা আতসবাজি উন্নয়ন সমিতি সরকারের সহযোগী হিসাবে কাজ করে আসছে। ওই সংগঠনের জেলা সভাপতি নিশীথ রাউত সরকারি অফিসে দৌড়ঝাঁপ থেকে বাজি কারিগরদের বাছাই করে সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো সহ নানা কাজে যুক্ত থেকেছেন। সারাবাংলা আতসবাজি উন্নয়ন সমিতি তৃণমূল প্রভাবিত একটি সংগঠন। পালাবদলের পর ওই সংগঠনের বাইরে থাকা আতসবাজির কারিগররা একজোট হয়েছেন। তাঁরা গ্রিন বাজি হাবের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান। সেই সঙ্গে ওই প্রকল্প থেকে সারাবাংলা আতসবাজি উন্নয়ন সমিতিকে হটাতে হবে বলেও জোরদার দাবি তুলেছেন।
বুধবার বিজেপি মনোভাবাপন্ন আতসবাজি কারিগররা তমলুকে জেলা শিল্প কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত দাসের সঙ্গে দেখা করেন। এরআগে তাঁরা তমলুকের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পাঁশকুড়ার রাতুলিয়ায় প্রস্তাবিত গ্রিনবাজি প্রকল্পে সারাবাংলা আতসবাজি উন্নয়ন সমিতিকে যুক্ত না করে তাদের সুযোগ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তৃণমূল মনোভাবাপন্ন ওই সংগঠনে এখন শিল্পীর সংখ্যা হাতেগোনা বলেও তাঁরা দাবি করেন। এদিকে, হাল ছাড়ছেন না আতসবাজি উন্নয়ন সমিতির জেলা সভাপতি নিশীথবাবুও। বুধবার কাঁথিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারীর সাক্ষাৎপ্রার্থী হন। নিশীথবাবু বলেন, আমরা শুরু থেকে এই স্কিমে যুক্ত আছি। বর্তমান সরকারও আমাদের আর্জিতেই জমিজট কাটিয়েছে। এখন অন্য কেউ এই স্কিম হাইজ্যাক করার চেষ্টা করলেও সেই উদ্দেশ্য সফল হবে না। বিপরীত পক্ষের শৈলেশ্বর পন্ডা বলেন, এই জেলার বাজি কারিগরদের অধিকাংশই আমাদের সঙ্গে আছে। তাই এই প্রকল্পের অংশীদার করা হোক আমাদের।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ১৬ফেব্রুয়ারি এগরা-১ব্লকের সাহাড়া পঞ্চায়েতের খাদিকুল গ্রামে ভানু বাগের অবৈধ বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। মোট ১১জনের মৃত্যু হয়। তারপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্লাস্টার গড়ে গ্রিন বাজি তৈরির কথা ঘোষণা করেন। এই জেলার ১৭০জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। পাঁশকুড়ার রাতুলিয়া মৌজায় জাতীয় সড়ক থেকে ৩০০মিটার দূরে ক্লাস্টারভিত্তিক গ্রিন বাজি তৈরির জন্য সরকারি জমি চিহ্নিত করা হয়। এজন্য প্রায় ছ’একর জমি বরাদ্দ করা হয়। জমি হস্তান্তর আটকে থাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না। অবশেষে সেই জট কেটে গিয়েছে। তবে প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার নিয়ে জট পেকেছে।