নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য পুলিশে কাজ করা প্রায় ৪৫০০ অস্থায়ী হোমগার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। জুলাই মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁদের পুনর্বহাল করার কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। এমনকি, তাঁদের জুলাই মাসের বেতনও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অথচ তাঁদের দিয়ে ডিউটি করানো হচ্ছে যথারীতি। আরও অভিযোগ, কোনো কোনো জেলায় তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হচ্ছে যে তাঁরা স্বেচ্ছায় কাজ করছেন। এর জন্য তাঁরা বেতন দাবি করবেন না।
তৃণমূল জমানায় ব্রিজ নির্মাণ, জাতীয় সড়কের সংস্কার, রাস্তার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে অস্থায়ী হোমগার্ড (টিএইচজি) নিয়োগ করা হয়। বিভিন্ন জেলায় তাঁদের যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও দেওয়া হয়। যদিও তাঁদের কোনো পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। এমন প্রায় ৪৫০০ টিএইচজি আছেন। পালাবদলের পর নতুন সরকার দাবি করে, এই অস্থায়ী হোমগার্ডদের নিয়োগ নিয়ম মেনে হয়নি। যে এজেন্সির মাধ্যমে এঁদের নেওয়া হয়েছে, তার কোনো অস্তিত্বই নেই। এজেন্সি কাজ করেছে শুধু কাগজে-কলমে! এখানেই শেষ নয়। এজেন্সিতে যে সংখ্যক অস্থায়ী হোমগার্ড আছেন বলে দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেই সংখ্যা অনেক কম। অথচ সবার নামে বেতন উঠেছে বছরের পর বছর। এনিয়ে অডিট শুরু হয়েছে। অস্থায়ী হোমগার্ডদের ছ’মাস অন্তর চুক্তি নবীকরণ হয়। জুলাই মাসে নিয়মমাফিক তাঁদের কাজের পুনর্নবীকরণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও তা হয়নি। গত মাসের বেতন পর্যন্ত পাননি তাঁরা। এই অবস্থায় তাঁরা অনেকেই আর ডিউটি করতে রাজি হচ্ছেন না। তাঁদের যুক্তি, এই অবস্থায় কেউ যদি তাঁদের পুনর্নবীকরণের কপি দেখতে চান, তাঁরা দেখাতে পারবেন না। কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় নেবে কে? কারণ সরকারি হিসাবে তাঁরা এখন আর পুলিশের কেউ নন। দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো সহায়তা পাবেন না। যদিও রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলা থেকে অস্থায়ী হোমগার্ডের তথ্য চাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের নিয়োগ পদ্ধতিসহ একাধিক প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগ জেলাই তাদের পাঠানো রিপোর্টে এসব কিছুই উল্লেখ করেনি। ফলে ফাইল আবার ফেরত যায় সংশ্লিষ্ট জেলায়। আবার নতুন করে তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেই তথ্য কিছুদিন আগে এসেছে। এখন সেগুলির অডিট চলছে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই বৈধ ও অবৈধ চিহ্নিত করা যাবে। যাঁরা বৈধ হিসাবে গণ্য হবেন, তাঁদের চুক্তি পুনর্নবীকরণ করা হবে বলে খবর।