Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাইনি অপবাদে ঠাকুমাকে পিটিয়ে খুন নাতির, গ্রেপ্তার

বোন মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়। তার অসুস্থতার কারণ নাকি ঠাকুমা। এই অভিযোগ তুলে ডাইনি অপবাদে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুন করল নাতি।

ডাইনি অপবাদে ঠাকুমাকে পিটিয়ে খুন নাতির, গ্রেপ্তার
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বোন মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়। তার অসুস্থতার কারণ নাকি ঠাকুমা। এই অভিযোগ তুলে ডাইনি অপবাদে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুন করল নাতি। ইট দিয়ে আঘাত করে বৃদ্ধাকে মেরে ফেলার ঘটনায় কুমারগঞ্জ থানার মামুদপুর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাতিকে গ্রেপ্তার করে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ সোমবার বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলে। সরকারি আইনজীবী শিবাজী সিংহ রায় বলেন, আদালত ধৃতকে চার দিনের পুলিশ হেপাজতে পাঠিয়েছে। এই খুনে ধৃতের সঙ্গে গ্রামের আরও অনেকে যুক্ত বলে দাবি মৃতের পরিবারের। দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

মৃতার নাতি, বোনের সঙ্গে গ্রামেই দিদার বাড়িতে থাকে। পরিবার সূত্রে খবর, ধৃতের নাবালিকা বোন দীর্ঘদিন অসুস্থ। প্রতিবেশীদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে বৃদ্ধাকে ডাইনি অপবাদ দেয়। বোনের অসুস্থতার জন্য ঠাকুমাকে দায়ী করে অভিযুক্ত। এনিয়ে কয়েকদিন আগে গ্রামে সালিশিসভা বসে। সেই সভায় বৃদ্ধাকে অপবাদ দেওয়া হয়। এমনকী বৃদ্ধার ছোট ছেলের থেকে ৭ হাজার টাকাও নেওয়া হয়। রবিবার বিকেলে অভিযুক্তর বোন ফের অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীর একাংশকে নিয়ে বৃদ্ধার বাড়ি যায় অভিযুক্ত। বৃদ্ধার ছোট ছেলে ও বউমাকে মারধর করার চেষ্টা করে তারা। ভয়ে বৃদ্ধার ছোট ছেলে ও বউমা পালিয়ে যায়। বৃদ্ধা ঠাকুমাকে একা পেয়ে মারধর করে অভিযুক্ত। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধার।

Advertisement


মৃতার ছোট ছেলে বলেন, আমার ভাইপো ও প্রতিবেশীরা আমাকে মারধরের চেষ্টা করে। আমরা পালিয়ে যাই। ভাইপো ইট দিয়ে মাকে মেরে ফেলেছে। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 
বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস। বলেছেন, আমরা ওই গ্রামে সচেতনতামূলক প্রচারের ব্যবস্থা করছি। ওই এলাকায় প্রচারের ব্যবস্থা করছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চও।
সংগঠনটির জেলা সম্পাদক অনিমেষ লাহিড়ী বলেন, আগেও জেলার বেশ কিছু গ্রামে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। আমরা এলাকায় গিয়ে মানুষকে সচেতন করব। ডাইনি বলে সমাজে কিছু নেই। • শোকাহত মৃতার ছেলে। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ