নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের দায়ে এক বৃদ্ধের ২০ বছরের জেল হল। শুক্রবার ওই সাজা ঘোষণা করেন জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক রিন্টু শূর। ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরদিন এনজেপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে শিশুকন্যার পরিবার। চকোলেট খেতে দেওয়ার টোপ দিয়ে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ওই শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত বৃদ্ধ। সে নাবালিকার দাদুর বন্ধু। সেই সূত্রে অভিযুক্তকেও দাদু বলে ডাকত শিশুকন্যাটি। আদালত এদিন ২০ বছর জেল ছাড়াও সাজাপ্রাপ্তর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও একমাস জেলের নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে নির্যাতিতা নাবালিকাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে। মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী দেবাশিস দত্ত বলেন, মেয়েটি বাড়ির সামনে খেলছিল। অভিযুক্তের বাড়ি ওই এলাকায়। সে মেয়েটিকে চকোলেট দেওয়ার টোপ দিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। নাবালিকা চিৎকার করে কেঁদে ওঠায় পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। এরপর মেয়েটিকে রাস্তা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আসতে দেখে এলাকারই এক যুবক তাকে কোলে করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। শিশুকন্যার থেকে ঘটনা জানতে চান তার মা। কিন্তু মেয়েটি সেসময় কিছু বলেনি। পরে বাড়ির লোকজন লক্ষ্য করেন, মেয়েটি যেখানে বসেছিল, সেই জায়গাটি রক্তে ভিজে গিয়েছে। এরপরই তাঁরা বুঝতে পারেন, মেয়েটির সঙ্গে খারাপ ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন, যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছে ওই নাবালিকা। পরে মেয়েটি তার দিদিমাকে ঘটনাটি জানায়। এরপরই ওই শিশুকন্যার মা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মেয়েটি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে কয়েকদিন ভর্তিও ছিল। এদিকে, নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। মামলায় মোট আটজন সাক্ষ্য দেন।



