Bartaman Logo
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পেট চালাতে ধরেন গাড়ির স্টিয়ারিং রাতবিরেতে বিষধর সাপ ধরতে ডাক পড়ে নেপালের

পেশায় ট্রাকচালক। তবে নেশা সাপ ধরা। লোকালয়ে ঢুকে পড়া বিষধর সাপকে ধরে নিরাপদে জঙ্গলে ছেড়ে দেন তিনি। পরিবারের আপত্তি, আত্মীয়দের বকুনি, এমনকী প্রাণের ঝুঁকিও তাঁকে এই কাজ থেকে বিরত করতে পারেনি।

পেট চালাতে ধরেন গাড়ির স্টিয়ারিং রাতবিরেতে বিষধর সাপ ধরতে ডাক পড়ে নেপালের
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: পেশায় ট্রাকচালক। তবে নেশা সাপ ধরা। লোকালয়ে ঢুকে পড়া বিষধর সাপকে ধরে নিরাপদে জঙ্গলে ছেড়ে দেন তিনি। পরিবারের আপত্তি, আত্মীয়দের বকুনি, এমনকী প্রাণের ঝুঁকিও তাঁকে এই কাজ থেকে বিরত করতে পারেনি। খবর পেলেই পরিবারের চোখ এড়িয়ে সাপ ধরতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেতাই ছানাতলাপাড়ার ৬১ বছরের নেপাল ঘোষ এখন এলাকার অনেকের কাছেই ‘সাপের বন্ধু’ নামে পরিচিত।

Advertisement

ছোটবেলা থেকেই সাপ ধরার প্রতি তাঁর আগ্রহ। পেশায় দক্ষ ট্রাকচালক নেপালবাবু বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চালাতে যেমন পারদর্শী, তেমনই লোকালয়ে ঢুকে পড়া সাপ ধরাতেও তাঁর যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। ফলে বর্ষা এলেই তাঁর ডাক বাড়ে। কারও বাড়িতে বিষধর সাপ ঢুকেছে, এমন খবর পেলেই পৌঁছে যান নেপালবাবু।
সম্প্রতি ছানাতলাপাড়ার একটি বাড়িতে বিষধর সাপ ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে সাপটিকে ধরে ফেলেন নেপালবাবু। পরে সেটিকে লোকালয় থেকে দূরে নিরাপদ জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সাপ ধরে বিক্রি করলে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে তিনি সাপগুলিকে প্রাণে বাঁচিয়ে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়াকেই গুরুত্ব দেন।
নেপালবাবুর এই শখ অবশ্য পরিবারের কাছে মোটেই স্বস্তির নয়। তাঁর সাপ ধরা নিয়ে পরিবারের প্রবল আপত্তি রয়েছে। তাই বাড়িতে না জানিয়েই অনেক সময় বেরিয়ে পড়েন তিনি। সাপ ধরে ফিরে আসার পর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের বকুনিও শুনতে হয়। কিন্তু এত কিছুর পরেও দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস ছাড়তে পারেননি তিনি।
নেপালবাবু অবশ্য নিজের সাপ ধরার দক্ষতা নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেন, অনেক দিন ধরেই শখের বসে সাপ ধরি। খবর পেলেই বাড়ি বা লোকালয় থেকে সাপ ধরে দূরে জঙ্গলে ছেড়ে দিই। 
তাঁর এই কাজের প্রশংসা করেছেন এলাকার চিকিৎসক সাত্তার বিশ্বাস। তিনি বলেন, এই বয়সে বিষধর সাপ ধরার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে বিপদের আশঙ্কাও রয়েছে। সামান্য ভুল হলেই প্রাণহানি ঘটতে পারে। বন দপ্তরের কর্মীরা সাধারণত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সাপ ধরেন। নেপালবাবু প্রায় খালি হাতেই এই কাজ করেন।
বন দপ্তরও তাঁর কাজের প্রশংসা করেছে। তেহট্ট বন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও নেপালবাবু দীর্ঘদিন ধরে যে ভাবে সাপ ধরে নিরাপদ জায়গায় ছেড়ে দিচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। অনেক সময় খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছতে আমাদের কিছুটা সময় লাগে। তাঁর সঙ্গে একদিন দেখা করে সাপ ধরার বিষয়ে প্রাথমিক কিছু ধারণা দেওয়া হবে। তাতে সাপ উদ্ধার যেমন আরও সহজ হবে, তেমনই নেপালবাবুও নিরাপদে কাজ করতে পারবেন।
ট্রাকের স্টিয়ারিং সামলানোর পাশাপাশি নীরবে প্রকৃতির এই সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার কাজ করে চলেছেন নেপালবাবু।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ