Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

সবুজ-মেরুন জার্সি তুলে দিয়েছিলেন গোবিন্দদা

১৯৯৭ সাল। সেল থেকে সেবারই মোহন বাগানে সই করি। বারপুজোর সকালে তাঁবুতে পা রেখে আমি তো অবাক

সবুজ-মেরুন জার্সি তুলে দিয়েছিলেন গোবিন্দদা
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

ঘরোয়া লিগ ঘিরে বাঙালি বরাবরই নস্টালজিক। একটা সময় লিগের ম্যাচে সবুজ ঘাসে স্ফুলিঙ্গ ছুটত। ময়দান জুড়ে উত্থান-পতন, হাসিকান্নার কোলাজ। কলকাতা লিগ বহু তারকার জন্মদাতা। অনেকেরই কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জলকাদার ফুটবল। তাদের মধ্যে বাছাই করা তারকারা অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুললেন বর্তমানের পাঠকদের জন্য। 

Advertisement

সৌমিত্র চক্রবর্তী: ১৯৯৭ সাল। সেল থেকে সেবারই মোহন বাগানে সই করি। বারপুজোর সকালে তাঁবুতে পা রেখে আমি তো অবাক। ফুল, মিষ্টি, সানাইয়ের সুরে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবে উৎসবের আমেজ। সমর্থকরাই গেট থেকে পৌঁছে দেন টেন্টে। ড্রেসিং-রুমে লকার খুলে ৭ নম্বর জার্সি পরিয়ে দিয়েছিলেন গোবিন্দরাজ। সেকথা মনে পড়লে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। এসব স্মৃতি আজীবনের সম্পদ।  ফুটবল দেবতাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ঘরোয়া লিগের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। 
ছোট থেকে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। ট্রায়াল দিয়ে সুযোগ পাই সাইতে। তারপর আমায় স্পট করেন প্রখ্যাত খেলোয়াড় কাজল মুখার্জি। যাই হোক, মিলন বিথীতে কড়া নাড়ার পর পরবর্তী গন্তব্য সেল। ঘরোয়া লিগে সেল তখন বড় দলের যম। লিগ শেষ হতেই প্রস্তাব দেন দুই প্রধানের কর্তআরা। তবে আগে কথা দেওয়ায় মোহন বাগানেই সই করি। অমল দত্তের ডায়মন্ড সিস্টেম নিয়ে তখন উত্তাল ভারতীয় ফুটবল। ক্ষুদ্র হলেও সেই সিস্টেমের অংশীদার হতে পেরে আমি গর্বিত। পুরনো কথা মনে পড়ছে। মরশুমের শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য মোহন বাগান।  সত্যদা, বাসু, দেবজিৎ, আর পি, দীপেন্দু কাকে ছেড়ে কাকে আটকাবে প্রতিপক্ষ? ম্যাচ শুরুর দু’ঘণ্টা আগেই মাঠ ভরে যেত। অথচ সেই লিগের টিমটিমে হাল মানসিক কষ্ট বাড়ায়। কেন এমন হল? আইএফএ’কে অনুরোধ, ঘরোয়া লিগকে জেলা লিগে পরিণত করবেন না। ঘেরা মাঠে ম্যাচ ফেরানো হোক। তাতেই একলাফে উন্মাদনা অনেকটাই বাড়বে। ময়দানের কর্তারাও গ্যালারিতে হাজির থাকেন। তাঁদের নোটবুক ভরাবে উদীয়মান ফুটবলাররা। বাংলার জেলায় এখনও প্রতিভার অভাব নেই। ঘরোয়া লিগ তাদের তুলে আনার প্ল্যাটফর্ম। অহেতুক তাড়াহুড়ো না করে পরিকল্পনামাফিক লিগের আয়োজন করাই যায়। তাতেই বাঁচবে বাংলার ফুটবল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ