


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকার টাকা দেয় ঠিকই, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিজস্ব নিয়মেই চলবে। সেই স্বাধিকার রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির। সোমবার ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের হবু উপাচার্যদের ডেকে সেই বার্তাই দিলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণাণের নেতৃত্বাধীন ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন (১৯৪৮-৪৯) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার নিয়ে যে বার্তা দিয়েছিল, এদিন মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সরকারের কোনওরকম হস্তক্ষেপ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে চালানোর নির্দেশের পাশাপাশি নিজের লেখা ‘ম্যান অব আইডিয়াস’ বইটিও তাঁদের উপহার দিয়েছেন আচার্য।
শিক্ষাগত উৎকর্ষ বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভালোভাবে চালিয়ে এরাজ্যের শিক্ষার মানকে ফের আগের মতো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন আচার্য। এখানেই প্রশ্ন তুলছেন কোনও কোনও শিক্ষাবিদ। রাজ্যপাল পদাধিকারে আচার্য। উপাচার্যদের উপরে। তবে, কীভাবে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় চালাবেন, সেটা তাঁদের ডেকে নিয়ে নির্দেশ দেওয়া খুব একটা ভালো দেখায় না বলেই তাঁদের মত।
সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে যে বিশেষ কমিটি উপাচার্যদের বেছেছে, তাঁরা সবাই অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ। এদিকে, রাজ্যপাল যে একতরফা অস্থায়ী উপাচার্যদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথায় বসিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন আমলা, পুলিশকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমুখ ছিলেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না।
এদিন কলকাতা (আশুতোষ ঘোষ), যাদবপুর (চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য), বীরভূমের বিশ্ববাংলা (আবু তালেব খান), ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু (চন্দ্রদীপা ঘোষ), মালদহের গৌড়বঙ্গ (আশিস ভট্টাচার্য) এবং পশ্চিম বর্ধমানের কাজি নজরুল (উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীরা ছিলেন। দু-একদিনের মধ্যে রাজ্যপাল এঁদের তালিকা ছেড়ে দেবেন। ফলে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি উপাচার্য পেয়ে যাবে।