সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: হিমঘরে প্রচুর আলু মজুত আছে। সেই আলু বেনফেড, কনফেডের মতো সংস্থাগুলিকে দিয়ে বাইরের রাজ্য পাঠানোর চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। মঙ্গলবার কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ আলু ব্যবসায়ী, হিমঘর অ্যাসোসিয়াশেন এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে, তা ব্যবসায়ী এবং আধিকারিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। বিহার, ঝাড়খণ্ড, অসম, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে কীভাবে আলু পাঠানো যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা ভর্তুকির দাবি তোলেন। তবে, কোনো সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি। সরকার ১০ দিন পর আবার বৈঠকে বসতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, এখন হিমঘরে বহু কৃষকের আলু মজুত রয়েছে। দাম না পাওয়ায় অনেকেই হিমঘর থেকে আলু বিক্রি করতে চাইছেন না। বাজারে ১১ টাকা দরে আলু বিক্রি হলেও চাষিরা তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা দাম পাচ্ছেন। কোনো কোনো দিন সেই দামও পাচ্ছে না। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষে জগবন্ধু মণ্ডল বলেন, সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করি ভাল কিছু হবে।
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মরশুমে পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও ব্যাপক আলুর ফলন হয়েছিল। ওই দুই রাজ্য থেকে আলু ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারে যাচ্ছে। তাছাড়া উত্তরপ্রদেশ সরকার ভর্তুর্কি ঘোষণা করেছে। এরাজ্যের সরকারও তেমনটাই করবে বলে কৃষকরা আশাবাদী। আলু চাষি শীতল মণ্ডল বলেন, সরকার হস্তক্ষেপ না করলে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হবে। বাজারে চাহিদা না থাকায় অনেকেই হিমঘর থেকে বাইরে আলু বের করতে চাইছে না। তিন থেকে সাড়ে তিনটে টাকায় আলু বিক্রি হলে লাভ হবে না। মাঠ থেকে আলু ওঠার সময় দাম বেশি ছিল। এখন মনে হচ্ছে, তখন বিক্রি করে দিলেই ভাল হত। এক আধিকারিক বলেন, সরকার হস্তক্ষেপ করতে চাইছে বলেই সবার মতামত জানতে চাইছে। বেনফেড বা কনফেডের মতো সংস্থাগুলিকে দিয়ে আলু কেনানোর পর তা বাইরে পাঠানো যায় কি না, সেটাই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ফাইল চিত্র