সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র মায়াপুর ট্যাকের ঘাটের জেটিটি বেশ কয়েক বছর ধরে তৈরি হয়ে অবহেলায় পড়ে আছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই ফেরিঘাট পেরিয়ে নবদ্বীপ ও মায়াপুরের মধ্যে যাতায়াত করেন। ভোর থেকে শুরু হয়ে যায় নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া থেকে পর্যটকদের যাতায়াত। লোহার জেটিটি চালু না হওয়ায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের মাচা দিয়ে নৌকায় উঠতে হয় অসংখ্য মানুষকে। দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকার ফলে জেটির বেশ কিছু অংশ বেদখলও হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে নিত্যযাত্রীদের দাবি, অবিলম্বে এই জেটি চালুর পাশাপাশি সেটিকে দখলমুক্ত করা হোক।
দীর্ঘদিন এই জেটিটি পড়ে থাকার ফলে দিনের পর দিন একটু একটু করে দখল হয়ে যাচ্ছে মায়াপুর ট্যাকের ঘাটে নবনির্মিত স্নানের ঘাটের কিছু অংশ। ইতিমধ্যে জেটির যাতায়াতের রাস্তার নিচে বেশ কিছু অংশ ঘিরে ফেলে তৈরি হয়েছে টিনের ঘর। এভাবেই সুকৌশলে মায়াপুর ট্যাকের ঘাট সংলগ্ন জেটির পাশেই চলছে দখল। মায়াপুর শ্রীনাথপুরের এক বাসিন্দা জেটির নিচে অবৈধ নির্মাণ করছেন এমনটাই অভিযোগ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে ট্যাকের ঘাট সংলগ্ন এলাকায় শচীমাতা স্নানের ঘাটে তৈরি হয়েছে একটি ছোটো ঘাট মন্দির। সেই মন্দির এবং জেটি সংলগ্ন শচীমাতা স্নান ঘাটের মাঝামাঝি জায়গায় তৈরি হয়েছে এই টিনের ঘর। মায়াপুরে ঘুরতে আসা পুণ্যার্থী ও পর্যটকরা প্রতিদিন এই শচীমাতা ঘাটে স্নান সারেন। সে কারণে সকাল থেকেই ভিড় লেগে থাকে এখানে। অথচ ওই জায়গাটি দিনের পর দিন সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। স্নানের ঘাটে নামতে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় ও তীর্থ করতে আসা মানুষজন। নবদ্বীপ হরিতলার বাসিন্দা সুভাষ মণ্ডলের কথায়, জেটিটা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বাঁশের মাচা দিয়ে পারাপারে বিপদ থেকে যায়। এটা প্রশাসনের গুরুত্ব দেখা উচিত।
মায়াপুর সরস্বতী নগরের বাসিন্দা তুলসীপ্রিয়া রাধিকা দেবী দাসী বলেন, বর্ষার চার মাস এই জেটি দিয়ে পারাপার করানো হয়। কেন না জলস্তর বাড়লে বাঁশের মাচাগুলি ডুবে যায়।
এদিকে জেটি সংলগ্ন ট্যাকের ঘাটে যে মন্দির আছে সেখানের পূজারী ত্রিপুরার বাসিন্দা গণেশ দাস। তিনি বলেন, জেটির নিচে টিনের ঘর করে থাকি। এক-দেড় বছর ধরে আছি। এই মন্দিরে পুজো করি।
নবদ্বীপ ফেরিঘাট জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদারের কথায়, মায়াপুর ট্যাকের ঘাটের নবনির্মিত জেটির পাশে ঘর তৈরি করেছেন যিনি, তিনি শ্রীনাথপুরের বাসিন্দা। জেটি লাগোয়া সরকারি জায়গায় যেভাবে ঘর তৈরি হয়েছে, তাতে দিনের পর দিন এই জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছি। পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য তথা মায়াপুরের বাসিন্দা গৌতম পাল বলেন, পূর্বতন তৃণমূল পরিচালিত সরকার এখানে যে জেটি তৈরি করেছে, সেই জেটি ঘিরে অবৈধভাবে কিছু লোককে বসানো হয়েছে। চলাচলের রাস্তাকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখছি জেটিটা যাতে ফের চালু করা যায়। বিষয়টি বিধায়ককেও জানাব। -নিজস্ব চিত্র