নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচনি ও রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল স্বরাষ্ট্র দপ্তর। ২০০১ থেকে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু একজন নির্ভরশীল সদস্যকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। তবে এজন্য একগুচ্ছ শর্তও বেঁধে দিয়েছে নবান্ন। অনেকটা ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ ধাঁচে—আবেদনকারীর আর্থিক পরিস্থিতি, পারিবারিক অবস্থা এবং যোগ্যতা বিচার্য। পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে
কোনো শর্ত ছিল না। কিন্তু বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণায় অর্থ প্রাপ্তি শর্তসাপেক্ষ। এবার রাজনৈতিক হিংসায় চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত: পরিবারের মাসিক আয় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। পরিবারের কোনো সদস্য আয়করদাতা হলেও
আবেদন গ্রাহ্য হবে না। পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত সরকারি চাকরিজীবী হলে এই সুবিধা তাদের জন্য নয়। আবার একই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কেউ ক্ষতিপূরণমূলক চাকরি পেয়ে থাকলে নতুন করে আর কাউকে নিয়োগ করা হবে না। একটি পরিবার থেকে একজনই এই সুযোগ পাবেন। পরিবারের অন্য নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্বগ্রহণের মুচলেকাও দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে।
সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক হিংসায় পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে চরম আর্থিক দুর্দশার মধ্যে পড়তে হয়। সেই পরিস্থিতিতে আর্থিক সুরাহা এবং পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরিবারের একজন সদস্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি রাজনৈতিক হিংসার কারণেই ঘটেছে কি না, তা যাচাই করে দেখবে জেলা স্তরের স্ক্রিনিং কমিটি। এক্ষেত্রে এফআইআর, চার্জশিট এবং আদালতে চার্জগঠনের নথি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি। জেলা স্তরের কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন ডিএম। একইসঙ্গে রাজ্য স্তরেও একটি কমিটি হবে স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহতের স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে কিংবা তৃতীয় লিঙ্গের সন্তান আবেদন করতে পারবেন। অবিবাহিত ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারী হতে পারেন মৃতের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ভাই বা বোন। তবে তাঁদের বাবা-মা এবং ভাইবোনেরাও সম্পূর্ণভাবে ওই ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। চাকরির জন্য আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইট পাশ এবং গত ১ জানুয়ারির নিরিখে বয়স ন্যূনতম ১৮। তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে জেলা কমিটি।
আবেদন জানাতে কী করণীয়? বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ডিএমের কাছে। মৃত্যুর শংসাপত্র, সম্পর্কের প্রমাণ, এফআইআর, চার্জশিট-সহ প্রয়োজনীয় নথি প্রভৃতি জমা দিতে হবে। জেলা স্তরের কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন যাচাই করে সুপারিশ পাঠাবে রাজ্যের কাছে। আবেদন খারিজ হলে ৩০ দিনের মধ্যে রাজ্য স্তরের কমিটির কাছে ফের আবেদন করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। সেটির নিষ্পত্তির জন্যও ছমাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য। পুলিশি যাচাই, স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেই নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।



