বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: ফের অশান্ত মণিপুর। দুই পৃথক জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং ও তাঁর সরকার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেওয়ার পরই বলেছিল, শান্ত হবে মণিপুর। কিন্তু না। জাতিগত হিংসায় মৃত্যু মিছিল রুখতে ব্যর্থ রাজ্য ও কেন্দ্রের ডবল ইঞ্জিনের সরকার। নতুন সরকার আসার পর থেকে উত্তর পূর্বের এই রাজ্যে হিংসার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫৫ জনের। ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকার পদত্যাগ করুক, দাবি উঠছে মণিপুরে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে। নোনে জেলায় কেক্রু নাগা গ্রামে সংঘর্ষের শুরু হয় দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে। দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে গুলির লড়াই চলে। তাতেই মৃত্যু হয় তিন কুকি যুবকের। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুকি সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর। তাদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে নাগা জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত রয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার মণিপুরের সেনাপতি জেলায় উদ্ধার হয়েছে নিখোঁজ দুই কুকি যুবকের দেহ। মৃত দুই যুবকের নাম পাওগিনলাল হাংসিং (২০) এবং টিংগিনলুন চংলোই (২০)। দুজনেই গত ২৮ অক্টোবর তাফৌ কুকি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। রবিবার তাঁদের দেহ উদ্ধারের পর কাংপোকপিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই পরিস্থিতে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, এনআরসির বাস্তবায়ন, অসম রাইফেলসকে মণিপুর থেকে সরিয়া নেওয়া, হিংসায় বাস্তুচ্যুতদের ঘর বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া সহ বিভিন্ন দাবিতে রবিবার মণিপুর জুড়ে বিশাল র্যালি করে মেইতেই ও নাগা জনগোষ্ঠী। মেইতেই জনগোষ্ঠীর শীর্ষ সংগঠন কোকোমি-র আহ্বায়ক ওয়াই ধীরেন বলেন, ‘রাজ্যের আদিবাসী জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। আমাদের দাবি সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকার পদত্যাগ করুক।’



