নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কার নির্দেশে লাখ লাখ ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গে? এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই চলছে চাপান-উতোর। এমন আবহে রবিবার বাংলায় ভোট লুটের অভিযোগে গর্জে উঠল দিল্লির রামলীলা ময়দান। মোদি-বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র জনসভায় হাজির নেতানেত্রী, জেন জি, নাগরিক সমাজ... সকলের বক্তৃতায় উঠে এল পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রসঙ্গ। প্রত্যেকের চোখেই ‘ভিলেন’ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, নেহা বোরা থেকে প্রশান্ত ভূষণ একসুরে বললেন, ‘বাংলায় ভোট লুট হয়েছে। মানুষের সমর্থনে নয়, ভোট চুরি করেই জিতেছে বিজেপি।’
‘চলো দিল্লি’ ডাকে এদিন রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ সভায় শামিল হয়েছিল বিজেপি বিরোধী অন্তত ১৯ টি দল। ব্যতিক্রম আম আদমি পার্টি। বিজেপি বিরোধী হলেও পাঞ্জাব নির্বাচনের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস সঙ্গ এড়াতে তাঁদের কেউ আসেননি সমাবেশে। মমতা ছিলেন মূল মঞ্চে। সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন। পাশের মঞ্চে মহুয়া মৈত্র, অধীররঞ্জন চৌধুরীরা। উপচে পড়া ভিড়ের চেহারা দেখে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার শক্তি পেলেন বিরোধী নেতানেত্রীরা। মমতা রীতিমতো চাঁচাছোলা ভাষায় শানালেন আক্রমণ, ‘বাংলায় বিজেপি ভোট লুট করে জিতেছে। তবে আমরা লুট নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই দিল্লি দখল করব।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘এসআইআর আসলে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন নয়। বিজেপিকে স্পেশাল ইনসেন্টিভ দিয়েছেন ভ্যানিশ কুমার। নির্বাচন হাইজ্যাক হয়েছে বাংলায়। তাই আমরাও ছাড়ব না। লড়ে যাব। বিজেপিকে হটাবই।’ তিনি স্লোগান তুললেন, ‘জয় হিন্দ। বন্দে মাতরম!’ গলা মেলাল গোটা রামলীলা ময়দান।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট চুরির কথা শোনা গেল রাহুল গান্ধীর গলাতেও। বললেন, ‘মমতাজি যেভাবে বাংলার ভোট চুরির কথা বলেছেন, সেভাবেই হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও চুরি হয়েছে। লাগাতার ভোট চুরি হচ্ছে।’ বক্তৃতায় বাংলার প্রসঙ্গ টেনে সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সরাসরি বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলকে—‘কে না জানে বাংলার ভোট লুট করেছে বিজেপি! ভোটের আগে এসআইআরে ভোটারদের নাম কেটে দিয়েছে কমিশন। বিজেপি জানে এমনিতে জিততে পারবে না। তাই ষড়যন্ত্র করে জিতেছে।’
তরুণ তুর্কি আইসা নেত্রী নেহা বোরা বক্তৃতার মাঝপথে তুললেন বাংলার কথা। বললেন, ‘বাংলায় বেছে বেছে মহিলা আর মুসলমান ভোটারদের নাম বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ‘ফর্ম ৮’ দিয়ে নাম বাতিল করা হয়েছে। তাই আমাদের এই লড়াই চলবে। জ্ঞানেশ কুমারকে যেতেই হবে।’ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও ভুললেন না বাংলার ভোট লুট ইস্যুকে। সাফ জানালেন, বাংলায় যেভাবে লাখো লোকের নাম কেটে দিয়েছে কমিশন, তা নজিরবিহীন। কিন্তু ভোট চুরির বিরুদ্ধে জনতা জেগে উঠেছে। শীঘ্রই দেশে বড়ো পরিবর্তন হবে।



