মোদিকে পালাতে দেব না: রাহুল, জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেনই, দিল্লির রামলীলা ময়দানে হুংকার দেশবাসীর
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: অমিত শাহ বলেছেন, ‘মোদিজি কোথাও যাচ্ছেন না’। রাহুল গান্ধীও তাই বললেন... ‘মোদিজিকে কোথাও যেতে দেব না। পালাতে দেব না। কারণ, তাঁর বিচার হবে আইনের দরবারে। জনতার দরবারে।’ এই ভাষাতেই রবিবার বিজেপি বিরোধী আক্রমণের সুর সপ্তমে নিয়ে গেলেন দেশের বিরোধী দলনেতা। তাঁর সঙ্গে সুর মেলালেন প্রত্যেক বিরোধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে নেহা বোরা... আম জনতার অধিকার রক্ষার দাবিতে কেঁপে উঠল রামলীলা ময়দান। শত ‘বাধা’ সত্ত্বেও জনস্রোত আছড়ে পড়ল দিল্লিতে। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চের পর ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর। ফের দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিজেপি বিরোধী জন সমাবেশে একজোট মোদি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’। সেবার ছিল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও র‌্যালি’। এবার ‘চলো দিল্লি’ ডাকে একজোট জনতা। স্লোগান, ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’। ভোটচুরির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমার হটাও। মূল টার্গেট? মোদি-শাহ। 

Advertisement

হুডখোলা গাড়িতে রাস্তা থেকে রামলীলা ময়দান, জনসমুদ্র আর সাধারণের সিংহ গর্জনের শক্তিতেই রাহুল গান্ধী দাগলেন তোপ। বললেন, ‘নিজেদের যত বড়োই ভাবুন না কেন, সংবিধানের থেকে বড়ো কেউ নয়। সংবিধান, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে দেব না।’ ছেড়ে কথা বললেন না জ্ঞানেশ কুমারকেও। উপস্থিত জমায়েতকে সাক্ষী রেখে আত্মবিশ্বাসের অনুরণনে রাহুলের মন্তব্য, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে সিইসি পদ থেকে সরতেই হবে। জেল তিনি যাবেনই।’ রাহুলের এই মন্তব্যে হর্ষধ্বনি আর করতালির ঝড় বয়ে গেল। যেন উপস্থিত জনতা এই কথাটি শুনতেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল বেলা ১২টা থেকে—জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন! রাহুল বললেন, ‘ভোটচুরির বিরুদ্ধে যেভাবে গোটা দেশ জেগে উঠেছে, জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না। রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে মোদিজি, অমিত শাহেরও। দেশজুড়ে একটাই প্রতিবাদের আওয়াজ—ভোট চোর গদ্দি ছোড়।’ তিনি সাফ বললেন, ‘২০২৪ সালের ভোটে বিরোধীদের সঙ্গে এনডিএর ভোটের ফারাক ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। আর তারপর এসআইআরের নামে দেশের ১৫ শতাংশ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতি সাতজনে একজন।’ রাহুলের গুরুতর অভিযোগ, ‘২০২৪ সালের লোকসভা ভোট অবৈধ। জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।’
 হুংকার দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। বললেন, ‘আর ঠেকানো যাবে না। মোদিজির চ্যালা শুনে রাখুন, মাটির নীচে লুকিয়ে থাকলেও খুঁজে বের করে সাজা দেব।’ জেন-জি নেত্রী নেহা বোরা জ্ঞানেশ কুমারকে ‘বিজেপির ভোট ম্যানেজার’ বলে আক্রমণ শানালেন। অখিলেশ যাদবের আক্রমণ, ‘জনতার ভোটে জিততে পারবে না বিজেপি। তাই এসআইআর করে ভোট লুট হচ্ছে।’ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘জেন-জি, ছাত্র সমাজ, সাধারণ মানুষ, সিভিল সোসাইটি যেভাবে একজোট হয়েছে... বিজেপি এবার যাবেই।’ বক্তৃতায় সোনিয়া গান্ধীকে ‘মাই লিডার’ বলে সম্বোধন করলেন মমতা। রাহুলকে বললেন, ‘আমাদের লড়াকু নেতা’। মঞ্চে বসা সোনিয়ার মুখে প্রসন্নভাব। প্রিয়াঙ্কার ঠোঁটে মুচকি হাসি। স্বস্তি তাবৎ বিরোধী নেতৃত্বের চোখেমুখে... কারণ, দেশকে একজোট হতে দেখছেন তাঁরা। রাজনীতি নয়, রং নয়, জাতি-ধর্ম নয়। অধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে কাতারে কাতারে মানুষ রামলীলা ময়দানে হাজির। এক অন্য ‘রাবণবধ’, অন্য বিজয়া সম্মিলনির টানে।