শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ফুটবল মরশুম জমজমাট। বর্ষার ময়দানে বুটের দাপাদাপি। কিন্তু ভ্যানিশ বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি। তারা গেল কোথায়? প্রথম ডিভিসনে নিজেদের প্রথম দু’টি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে ওয়াকওভার দিয়েছে রাজ্য সরকারের অ্যাকাডেমি দল। কারণ খুঁজতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। আর্থিক অবস্থায় জেরবার বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি। বাংলায় সরকার বদলের পর যাবতীয় অনুদান বন্ধ। এখানেই শেষ নয়। তৃণমূল জমানায় রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন খেলার একাধিক অ্যাকাডেমি এখন ধুঁকছে।
২০১৪ সালে খড়দহে রাজ্য সরকারের ফুটবল অ্যাকাডেমির পথ চলা শুরু। গৌতম সরকার, প্রশান্ত ব্যানার্জি, অনন্ত ঘোষের মতো প্রাক্তনরা দীর্ঘদিন কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমানে চিফ কোচের পদে সুব্রত ভট্টাচার্য (পটলা)। বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দল মিলিয়ে ফুটবলারের সংখ্যা ৯৫। এদের মধ্যে ৬৫ জন থাকেন কমপ্লেক্সে। অনূর্ধ্ব-১৩, ১৫ ও ১৭ ইয়ুথ লিগে চ্যাম্পিয়ন বিএফএ। প্রতিভাবান ফুটবলার তনবীর দে’কে তুলে নিয়েছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড। কিন্তু আর্থিক সমস্যায় বিএফএ’র ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আর্থিক সমস্যায় লিগে দল না নামলে লজ্জার একশেষ। গোটা ঘটনা জানিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন আইএফএ সচিব। কিন্তু জট কাটেনি এখনও। এবিষয়ে অনির্বাণ দত্তের মন্তব্য, ‘ক্রীড়ামন্ত্রী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। সমস্যা মেটাতে তাঁর দিকেই সবাই তাকিয়ে।’ অন্যদিকে ক্রীড়ামন্ত্রীর মন্তব্য, ‘বিভিন্ন অ্যাকাডেমি নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়েছে আমাদের কাছে। স্বচ্ছ্বতার অভাব থাকায় তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। আপাতত এটুকুই বলতে পারি।’ শোনা যাচ্ছে, যাবতীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখে একেবারেই খুশি নন তাঁরা। তাই টাকাও আটকে রয়েছে।
তিরন্দাজি অ্যাকাডেমি গড়ে উঠেছিল ঝাড়গ্রামে। গত ফেব্রুয়ারিতে স্কুল ন্যাশনালে রুপো পেয়েছেন বিদিশা রায় ও পিউ রায়। জানা গিয়েছে, একসঙ্গে ৬৪ জন শিক্ষার্থী অ্যাকাডেমিতে থাকতে পারেন। জঙ্গলমহলের একাধিক তিরন্দাজও এখানকার ফসল। সামনেই ন্যাশনাল র্যাঙ্ক তিরন্দাজির আসর বসবে বোকারোয়। কিন্তু আর্থিক সমস্যায় অ্যাকাডেমির প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। দমদমে শূরের মাঠে শ্যুটিং ও ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমিও সমস্যার গলাজলে। সমস্যা মিটলে নেট, র্যাকেট, শাটল কক কেনাও সমস্যার। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের টেবিল টেনিস অ্যাকাডেমি কিংবা সুভাষ সরোবরে সুইমিং অ্যাকাডেমিও প্রবল সমস্যায়। অনুদান না পেলে দৈনন্দিন খরচ চালানোয় দায়। সবমিলিয়ে মাথাচাড়া দিচ্ছে তীব্র সমস্যা।