Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোরুমারার প্রথম গাইড মঙ্গল কোরা এখন চেনাচ্ছেন জনজাতির সংস্কৃতি

গোরুমারার প্রথম গাইড মঙ্গল কোরা। পর্যটকদের জঙ্গল ঘোরাতে ৩০ বছর আগে তিনি শুরু করেছিলেন ওই কাজ।

গোরুমারার প্রথম গাইড মঙ্গল কোরা এখন চেনাচ্ছেন জনজাতির সংস্কৃতি
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, লাটাগুড়ি: গোরুমারার প্রথম গাইড মঙ্গল কোরা। পর্যটকদের জঙ্গল ঘোরাতে ৩০ বছর আগে তিনি শুরু করেছিলেন ওই কাজ। তখন কার সাফারি ছিল না। যতটা সম্ভব হেঁটে পর্যটকদের জঙ্গল ঘুরিয়ে দেখাতেন মঙ্গল। গাইডের কাজ করে মাথাপিছু মিলত ২৫ টাকা। তাও আবার কেউ দিতেন, কেউ দিতেন না। সেই গাইডের ফি বাড়তে বাড়তে এখন দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিনশো টাকা! পর্যটকদের জঙ্গল ঘুরিয়ে দেখাতে গিয়ে একাধিকবার বন্যপ্রাণীর সামনাসামনি পড়েছেন। কিন্তু লাটাগুড়ির বিচাভাঙা বনবস্তির বাসিন্দা মঙ্গল ছোট থেকেই হাতি-গন্ডার তাড়িয়ে বড় হয়েছেন। ফলে তিনি জানেন বুনোদের সামনাসামনি পড়ে গেলে কী করতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই মঙ্গলের সঙ্গে জঙ্গলে গিয়ে বিপদে পড়তে হয়নি পর্যটকদের। বয়সের ভারে বেশ কয়েক বছর হল গাইডের কাজ ছেড়েছেন বছর ষাটের মঙ্গল। তবে ভুলতে পারেননি পর্যটকদের। বনবস্তিতে নিজের একফালি জমিতে গড়ে তুলেছেন মিউজিয়াম। সেখানে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জনজাতির সংস্কৃতি থেকে পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, কৃষি সরঞ্জাম চেনাচ্ছেন তিনি। ডুয়ার্সের পর্যটনের প্রসারে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য এবার সেলুলয়েডে বন্দি হয়েছেন মঙ্গল। অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, তখন গোরুমারায় জঙ্গল সাফারি বলতে কিছু ছিল না। মূর্তিতে বনদপ্তরের একটা অফিস ছিল। সেখানে টিকিট কেটে আশপাশে জঙ্গলের কিছুটা ঘুরে দেখা যেত। মঙ্গল কোরা প্রথম লাটাগুড়িতে গাইড হিসেবে যুক্ত হন। তখন ওঁর বয়স খুবই কম ছিল। মঙ্গলকে দেখে আশপাশের বনবস্তির আরও পাঁচজন যুবক এগিয়ে আসেন। বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ওঁরা পর্যটকদের জঙ্গলের কয়েক কিমি ঘুরিয়ে দেখাতেন। হেঁটে পর্যটকদের জঙ্গল ঘুরিয়ে দেখানোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? মঙ্গল বলেন, তখন খুবই কম পর্যটক আসতেন। সেসময় লাটাগুড়িতে সেভাবে হোটেল, রিসর্টও ছিল না। বন্ধ হয়ে যাওয়া কাঠের মিলগুলিকে পর্যটকদের থাকার উপযোগী করেই লাটাগুড়িতে ট্যুরিজম শুরু হয়। তাঁর কথায়, লাটাগুড়ির জঙ্গলের বুক চিরে চলে যাওয়া রেললাইন পেরলেই হাতি-গন্ডারের দেখা মিলত। জঙ্গলের ভিতরে খুব বেশিদূর যাওয়ার অনুমতি না মিললেও পর্যটকরা বন্যপ্রাণীর দর্শন পেতেন।  অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের অন্যতম সদস্য তন্বিষ্ঠা রক্ষিত বলেন, লাটাগুড়ির পর্যটনে মঙ্গল কোরা গর্ব। বর্তমানে পর্যটকদের সামনে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জনজাতির সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন মঙ্গল।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ