Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গন্ডারের সঙ্গে হাড়হিম লড়াইয়ে হার মানেননি ৫৫ বছরেও বন্যপ্রাণ রক্ষায় অবিচল গোপাল

আজও চোখ বন্ধ করলে ১৫ বছর আগের ভয়ঙ্কর সেই চার মিনিটের ছবি ভেসে ওঠে। অমনি শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যায় ঠান্ডা স্রোত।

গন্ডারের সঙ্গে হাড়হিম লড়াইয়ে হার মানেননি ৫৫ বছরেও বন্যপ্রাণ রক্ষায় অবিচল গোপাল
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, রামসাই: আজও চোখ বন্ধ করলে ১৫ বছর আগের ভয়ঙ্কর সেই চার মিনিটের ছবি ভেসে ওঠে। অমনি শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যায় ঠান্ডা স্রোত। গন্ডারের সঙ্গে লড়াই বলে কথা! তবে হাড়হিম করা সেই লড়াইয়ে হার মানেননি এই ‘যোদ্ধা’। কোমর ভাঙলেও আজও জঙ্গলে বনপ্রাণ রক্ষার কর্তব্যে অবিচল ৫৫ বছরের গোপাল দেবনাথ।

Advertisement

গোরুমারা জঙ্গলের মেদলা ওয়াচ টাওয়ার যাওয়ার পথে রামসাই গেটে ডিউটিরত ওই বনকর্মীর কথায়, ‘শুধু কোমর ভাঙেনি, গন্ডারের গুঁতোয় আমার কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু জঙ্গল ও বন্যপ্রাণ রক্ষা করা আমার কাজ। ওরাই আমার ভালো থাকার রসদ। কয়েকটা দিন হাতি-গন্ডার দেখতে না পেলে মনটা খারাপ হয়ে যায়।
বন্যপ্রাণ রক্ষায় ‘অরণ্যসাথী’র অবদানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বনকর্তারা। গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, এটাই হল, নিঃশর্ত ভালোবাসা। যে বন্যপ্রাণীদের রক্ষার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যান, কখনও কখনও সেই বুনোদের হামলার মুখে পড়েন বনকর্মীরা। প্রাণ বাঁচাতে হাতি-গন্ডার, বাইসনের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। গোপাল তেমনই একজন। অবশ্যই ওঁর অবদানকে কুর্নিশ জানাই আমরা।’
ঠিক কী হয়েছিল ১৫ বছর আগে? গোপাল বলেন, আমি তখন রামসাই মোবাইল স্কোয়াডে। খবর এল, লাটাগুড়িতে ধরলা ব্রিজের কাছে গন্ডার বেরিয়েছে। খবর পেয়েই আমাদের টিম রওনা দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা গন্ডার ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে আমরা চার বনকর্মী মিলে চেষ্টা চালাচ্ছিলাম। শেষে ঠিক হয়, বাঁশের মাচা করে তার উপর উঠে শূন্যে গুলি ছোড়া হবে। গুলির শব্দে গন্ডারের গতিবিধি বুঝে চলবে ড্রাইভ। সব ঠিকই ছিল। কিন্তু আমি মাচায় ওঠার আগেই ভুলবশত এক বনকর্মী শূন্যে গুলি ছুড়ে দেন। আর গুলির শব্দে মুহূর্তে আমার দিকে ধেয়ে আসে গন্ডার।
তারপর? গন্ডারের সামনে পড়ার মুহূর্তের কথা মনে পড়তেই চোখ বন্ধ করে ফেলেন গোপাল। কাঁটা দেয় তাঁর সারা শরীরে। বলেন, গন্ডারের এক ধাক্কায় আমি মাটিতে পড়ে যাই। খড়্গ দিয়ে সে আমাকে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। আমি তখন দু’হাতে গন্ডারের নাসাছিদ্র চেপে ধরে রেখেছি। একটাই লক্ষ্য, কোনওভাবে যেন গন্ডার আমাকে না চেটে দিতে পারে। আমি জানতাম, গন্ডারের ওল্টানো জিভে যা ধার, একবার আমাকে চেটে দিলে সারা শরীরের মাংস উঠে দলা পাকিয়ে যাবে। চার মিনিট এভাবে গন্ডারের সঙ্গে লড়াই চালানোর পর সঙ্গে থাকা বনকর্মীদের চেষ্টায় কোনওমতে রেহাই পাই।  গোপাল দেবনাথ। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ